সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ঐশী বাণী লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সময়ের আপেক্ষিকতা সম্পর্কে কোর'আনের কিছু আয়াত

[সূরা ২৩/মুমিনুন -১১২-১১৪ ] قَالَ كَمْ لَبِثْتُمْ فِي الْأَرْضِ عَدَدَ سِنِينَ আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা পৃথিবীতে কতদিন অবস্থান করলে বছরের গণনায়? قَالُوا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ فَاسْأَلِ الْعَادِّينَ তারা বলবে, আমরা একদিন অথবা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি। অতএব আপনি গণনাকারীদেরকে জিজ্ঞেস করুন। قَالَ إِن لَّبِثْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا ۖ لَّوْ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা তাতে অল্পদিনই অবস্থান করেছ, যদি তোমরা জানতে? [সূরা ৭০/মা’আরিজ – ৪, ৫ ] تَعْرُجُ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ إِلَيْهِ فِى يَوْمٍۢ كَانَ مِقْدَارُهُۥ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍۢ . فَٱصْبِرْ صَبْرًۭا جَمِيلًا “ফেরেশতাগণ এবং রূহ আল্লাহ তা’আলার দিকে ঊর্ধ্বগামী হয় এমন একদিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর। সুতরাং, তুমি ধৈর্য ধারণ কর, পরম ধৈর্য।” [সূরা ২২/হাজ্জ - ৪৭]

বহুবিবাহ সম্পর্কে আল কোর'আন

কোর'আনে যেমন তালাকের বিধান আলোচনা করা হয়েছে, তেমনি বহুবিবাহের কথাও আলোচনা করা হয়েছে। তালাক দেয়ার আগে যেমন অনেক শর্ত রয়েছে, তেমনি বহু বিবাহ করার জন্যেও অনেক শর্ত রয়েছে। কোর'আনের যে আয়াতে বহুবিবাহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তা হলো সূরা নিসার ৩ নং আয়াত। এ আয়াতের শুরুতেই একটি শর্ত দেয়া হয়েছে, এবং শেষে একটি শর্ত দেয়া হয়েছে; আয়াতের মাঝখানে একটি বাক্যে বহুবিবাহের অনুমতি দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, কমপক্ষে দুটি শর্ত সাপেক্ষে বহুবিবাহের অনুমতি দেয়া হয়েছে। আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন - وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَىٰ فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَلَّا تَعُولُوا "(১)যদি তোমরা অসহায় নারীদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না বলে আশংকা করো, তাহলে তোমরা নারীদের মধ্য থেকে দুই, তিন, চারজনকে বিয়ে করো। (২) যদি তোমরা (স্ত্রীদের মাঝে) সুবিচার করতে পারবে না বলে আশংকা করো, তাহলে একজনকেই বিয়ে করবে, অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকে। আর এতেই পক্ষপাতিত্ব করার ...

জিকির ও তাসবীহ এর মাঝে পার্থক্য

চিন্তা-ভাবনাহীন ‘আল্লাহ, আল্লাহ এবং সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ’ বলাকে জিকির বলা হয় না, বরং তাসবীহ বলা হয়। আসমান ও জমিনের সকল সৃষ্টিকে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আল্লাহ তায়ালার তাসবীহ পড়তে হয়। যেমন, মানুষের শরীরের সব রক্তকে হৃদপিণ্ড একবার তার নিজের কাছে নিয়ে আসে, আবার ছেড়ে দেয়, এটাই হলো তার তাসবীহ। নদী সাগরের পানে বয়ে চলে, এটাই নদীর তাসবীহ। চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, প্রত্যেকে প্রত্যেকের কক্ষ পথে চলতে থাকে, এটাই তাদের তাসবীহ। অর্থাৎ, চিন্তা-ভাবনাহীনভাবে পৃথিবী ও পৃথিবীর বাইরের সবকিছু নিজেদের দায়িত্ব পালন করাকেই তাসবীহ বলা হয়। যেমন, আল্লাহ তায়ালা বলেন – سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۖ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ “আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর তাসবীহ করে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা ৫৯/ হাসর – ১] অর্থাৎ, আসমান ও জমিনের সবাই আল্লাহ তায়ালার তাসবীহ পাঠ করলেও সবাই আল্লাহর জিকির করতে পারে না। আল্লাহ জিকির করার জন্যে চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন। যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা চিন্তা-ভাবনা করার শক্তি দিয়েছেন, তারাই কেবল আল্লাহর জিকির করতে পারে। যেমন, আল্লাহ তায়...

মুরতাদ বা ধর্মত্যাগীর শাস্তি কি মৃত্যুদণ্ড?

অনেকে বলেন, মুরতাদ বা ধর্মত্যাগীদের শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু, কেউ যদি কোনো ধর্মত্যাগীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দেয়, তাহলে কোর’আনের অসংখ্য আয়াত অকার্যকর হয়ে যাবে। যেমন, নিচের আয়াত দেখুনগুলো। কোর’আনের সাথে বৈপরীত্য – ১ إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَّمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ سَبِيلًا “নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে, এরপর কাফের হয়ে যায়, তারপর আবার ঈমান আনে, এরপর আবার কাফের হয়ে যায়, অতঃপর তাদের কুফরি-ই বৃদ্ধি পায়, আল্লাহ তাদেরকে কখনোই ক্ষমা করবেন না, এবং তাদেরকে কোনো পথও দেখাবেন না”। [সূরা ৪/ নিসা – ১৩৭] এই আয়াতে স্পষ্ট যে, কেউ কেউ ঈমান আনার পর আবার কাফের হয়ে যায়। এরপর আবার ঈমান আনে। এখন প্রথমবার কাফের বা মুরতাদ হয়ে যাবার পরেই যদি একজন মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দেয়া হয়, তাহলে সে দ্বিতীয়বার ঈমান আনবে কিভাবে? আর, ঐ মুরতাদ ব্যক্তিটির যদি দ্বিতীয়বার ঈমান আনার কোনো সুযোগ না থাকে, তাহলে আল্লাহর এই আয়াতটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। কোর’আনের সাথে বৈপরীত্য – ২

কোর'আনের হরকত ও নোকতা ইতিহাস

কোর’আন নাযিলের সময়ে আরবি ভাষার অক্ষরগুলোতে কোনো নোকতা বা হরকত ছিলো না। ফলে রাসূল (স) যখন তাঁর সাহাবীদেরকে দিয়ে কোর’আন লেখাচ্ছিলেন, তখন কোর’আনের অক্ষরগুলোর মধ্যেও কোনো নোকতা বা হরকত ছিলো না। ছবি দুটি দেখুন, এগুলো প্রথম জামানার লিখিত কোর’আন। দ্বিতীয় ছবিটি এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে প্রাচীন কোর’আনের একটি ছবি, যা চামড়ার উপর লিখিত হয়েছে।

আল্লাহর ভাষা কি আরবি?

অনেকে বলেন, আল্লাহ তায়ালার ভাষা হলো আরবি। এ কথা প্রমাণ করার জন্যে তাঁরা যুক্তি দিয়ে বলেন যে, কোর’আন যেহেতু আল্লাহর বাণী, এবং এটি যেহেতু আরবি ভাষায় নাযিল হয়েছে, সুতরাং আল্লাহ তায়ালার ভাষাও আরবি। একই যুক্তির ভিত্তিতে ইহুদীরা বলেন, আল্লাহ তায়ালার ভাষা হলো হিব্রু ভাষা। যেহেতু তাওরাত আল্লাহর বাণী, এবং তা হিব্রু ভাষায় নাযিল হয়েছে, সুতরাং আল্লাহ তায়ালার ভাষা হলো হিব্রু। এ কারণে নাস্তিকরা প্রায়ই জিজ্ঞেস করে – ‘আচ্ছা, তোমাদের আল্লাহ কি আগে হিব্রু ভাষায় কথা বলতেন, আর এখন আরবি ভাষায় কথা বলেন?’ এর উত্তর খুবই সহজ।

ইহুদিরা শ্রেষ্ঠ হবার কারণ কি?

“ইহুদিরা ভালো খায়, তাই তারা ভালো চিন্তা করতে পারে, এবং এ কারণে তারা আজ সারা বিশ্বের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সুতরাং, মুসলিমদেরকেও এখন তাদের অনুকরণ করা উচিত।” – এ কথাটা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ বিতর্ক হচ্ছে দেখলাম। তাই, আমিও একটু অংশ নিলাম। মানুষের খাবার তার চিন্তা-ভাবনায় অনেক প্রভাব ফেলে, এ কথাটি খুবই সত্য। ইবনে খালদুন তাঁর মুকাদ্দিমায় এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আমরা সে আলোচনায় না গিয়ে কোর’আন ও হাদিস থেকে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করছি। আল্লাহ তায়ালা তাঁর সকল নবী ও রাসূলদেরকে উত্তম ও ভালো খাবার খেতে বলেছেন। يَـٰٓأَيُّهَا ٱلرُّسُلُ كُلُوا۟ مِنَ ٱلطَّيِّبَـٰتِ وَٱعْمَلُوا۟ صَـٰلِحًا ۖ إِنِّى بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌۭ “হে রসূলগণ, তোমরা উত্তম খাদ্য আহার কর এবং সৎকাজ কর। তোমরা যা কর, সে বিষয়ে আমি পরিজ্ঞাত”। [সূরা ২৩/ মুমিনূন - ৫১] মুমিনদের-ই একটি বৈশিষ্ট্য হলো তারা পুষ্টিকর ও উত্তম খাবার খায়। এ কারণেই সূরা মু’মিনে ভালো খাবারের আলোচনাটি এসেছে। শুধু তাই নয়, পুষ্টিকর ও উত্তম খাদ্য খাবারের জন্যে আল্লাহ তায়ালা তাঁর মুমিন বান্দাদেরকে নির্দেশও দিয়েছেন। يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُلُوا۟ مِن طَيِّبَ...

বড় জিহাদ কি? কিভাবে লড়তে হয়?

আমাদের উপর জিহাদ ফরজ করা হয়েছে, তাই আমাদেরকে জিহাদ করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন জিহাদ সবচেয়ে বড়? আল্লাহ তায়ালা বলছেন – فَلَا تُطِعِ ٱلْكَـٰفِرِينَ وَجَـٰهِدْهُم بِهِۦ جِهَادًۭا كَبِيرًۭا “তুমি কাফেরদের আনুগত্য করবে না এবং তাদের সাথে কোর’আনের সাহায্যে বড় জিহাদ কর”। [সূরা ২৫/ ফুরকান - ৫২] এ আয়াত দ্বারা স্পষ্ট যে, তরবারির সাহায্যে নয়, বরং কোর’আনের সাহায্যে যে জিহাদ করা হয়, তা হল সবচেয়ে বড় জিহাদ। অর্থাৎ, কোর’আনের মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ-ই হল সবচেয়ে বড় জিহাদ। ... এছাড়া, উত্তম জিহাদ সম্পর্কে রাসূল (স)-কে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি বলেন - عن أبي ذر قال: قلت يا رسول الله أي الجهاد أفضل قال: أن يجاهد الرجل نفسه وهواه "হযরত আবু জর রা: থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, "কোন জিহাদ সর্বোত্তম?" তিনি বললেন, "নফস ও কু-প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদই উত্তম জিহাদ"। [সুয়ুতী, জামিউল আহাদীস, মাকতাবায়ে শামেলা, হাদিস নং - ৪১৬৮৩। কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আক্বওয়াল ওয়াল আফআল, হাদিস নং- ১১৭৮০] নফস ও কু-প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করার সবচেয়ে ব...

Know yourself and know your enemy

Indeed, Satan is an enemy to you; so take him as an enemy. He only invites his party to be among the companions of Hell. ( Surah No. 35, Fatir, Verse No.6) Dear brothers and sister, Satan always comes to the believer from his weak side in order to lead him astray.  If Satan finds a person rigorous in a particular act, he comes to him from another direction.  For example, if a student is careful in his study, then Satan will attempt to sway him regarding a girlfriend or a boyfriend. Satan continually attempts to prevent us from making the right choice. But Allah wants us to purify and distance ourselves from Satan.

সূরা শু'আরা ও কোর'আনের চমৎকার স্টাইল

কোর’আনের কিছু কিছু সূরায় একসাথে অনেক নবী-রাসূলের ঘটনা বর্ণনা করা হয়। সাধারণত, একই সূরার মধ্যে অবস্থিত সকল নবী-রাসূলের ঘটনা বর্ণনা করার সময় একটি কমন প্যাটার্ন অনুসরণ করা হয়। উদাহরণ স্বরূপ আমরা সূরা শু’আরা দেখতে পারি। এ সূরার রুকু সংখ্যা ১১ টি। এবং এখানে ৭ জন নবীর নাম ও তাদের সম্প্রদায়ের আলোচনা করা হয়েছে। ১ম রুকুতে একটি ভূমিকা দেয়া হয়েছে। ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ রুকুতে মূসা (আ)-এর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। ৫ম রুকুতে ইব্রাহীম (আ), ৬ষ্ঠ রুকুতে নূহ (আ), ৭ম রুকুতে হূদ (আ), ৮ম রুকুতে সালিহ (আ), ৯ম রুকুতে লূত (আ), এবং ১০ম রুকুতে শুয়াইব (আ) এর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। সর্বশেষ ১১ তম রুকুতে একটি উপসংহার দেয়া হয়েছে। মূলত, ভূমিকা ও উপসংহার হলো মুহাম্মদ (স)-এর উদ্দেশ্য, যদিও তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়নি। মুহাম্মদ (স) সহ ৮ জন নবীর উল্লেখ করা হয়েছে এই সূরায়। সবার ক্ষেত্রেই কিছু কমন প্যাটার্ন ব্যবহার করা হয়েছে। নূহ, হূদ, সালিহ, লূত এবং শু'আইব (আ) এই ৫ জন নবীর সম্প্রদায়কে আল্লাহ তায়ালা ধ্বংস করে দিয়েছিলেন, তাই তাদের সবার আলোচনা হুবহু একই প্যাটার্নে করা হয়েছে। অর্থাৎ, ৬ থেকে ১০ নং রুকু পর্যন্ত প্রতিটি রুকুর প্যাটার্ন...

উলিল আমর কারা?

আল কোর’আনের সূরা নিসার ৫৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে – يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ وَأُو۟لِى ٱلْأَمْرِ مِنكُمْ ۖ فَإِن تَنَـٰزَعْتُمْ فِى شَىْءٍۢ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ ۚ ذَ‌ٰلِكَ خَيْرٌۭ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর। রাসূল ও উলিল আমরের আনুগত্য কর। এরপর যদি তোমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ ঘটে, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের নিকট ফিরে যাবে; যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতকে বিশ্বাস কর। এটাই তোমাদের জন্যে সুন্দর ও উত্তম উপায়”। [সূরা ৪/নিসা – ৫৯] . এ আয়াতটি অনুবাদ করার সময় অনেকেই ‘উলিল আমরের’ অর্থ করেন – ‘নেতা’। কিন্তু উলিল আমরের অর্থ যদি “নেতা” করা হয়, তাহলে কোর’আনের অন্য একটি আয়াতে সাথে বৈপরীত্য তৈরি হয়। কেননা, কেয়ামতের দিন জাহান্নামীরা আল্লাহর নিকট অভিযোগ করে বলবে – “আমরা আমাদের নেতার আনুগত্য করেছিলাম বলে তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে।” وَقَالُوا رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَاءَنَا فَأَضَلُّونَا السَّبِيلَا “হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা আমা...

নেতা, মুরব্বী, আকাবের বা বড়দের কথা

যে কোনো নেতা, মুরব্বী, আকাবের বা বড়দের কথা বিনা যুক্তিতে মেনে নেয়ার বিপদ অনেক। কারণ, মানুষ যখন জাহান্নামে যাবে, তখন আল্লাহর নিকট অভিযোগ করে বলবে – وَقَالُوا رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَاءَنَا فَأَضَلُّونَا السَّبِيلَا “হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা আমাদের নেতা ও বড়দের বা মুরব্বীদের কথা মেনে নিয়েছিলাম, তাই তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল”। [সূরা ৩৩/আহযাব – ৬৭] আল্লাহর আদালতে সরাসরি ও একাকী উপস্থিত হব আমি, সেখানে আমার ওকালতি অন্য কেউ করবে না। তাই, আমার যুক্তি-বুদ্ধি দিয়েই আমাকে আল্লাহর আনুগত্য করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা তার রাসূল (স)-কে দিয়েছেন ওহী, আর আমাদেরকে দিয়েছেন যুক্তি ও বুদ্ধি। এ দুটির সমন্বয়ে জীবন পরিচালনা না করে, অন্ধভাবে কোনো নেতা বা মুরব্বীর কথা মেনে নিলে, তাঁরা আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে পারবেন না।

ওহী ও যুক্তি কি পরস্পর বিরোধী?

মানুষের হৃদয়ের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। যাদের হৃদয় অচেতন, তাদেরকে মূর্খ বলা হয়। কিন্তু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে যাদের হৃদয় উন্নত চেতনায় পৌঁছে, তাদের হৃদয়ে আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াত সৃষ্টি হয়। আল্লাহ তায়ালা বলছেন – بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلَّا الظَّالِمُونَ বরং এটি স্পষ্ট আয়াত, যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে তাদের অন্তরে এটি রয়েছে। কেবল জালিমরাই আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে। [সূরা ২৯/আনকাবুত – ৪৯] এ আয়াতে বলা হচ্ছে, জ্ঞানীদের অন্তরে আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াত রয়েছে। অর্থাৎ, কোর’আনেও আল্লাহর আয়াত রয়েছে, আবার জ্ঞানী লোকের অন্তরেও আল্লাহর আয়াত রয়েছে। তাই, জ্ঞানীদের অন্তর ও আল কোর’আন কখনো পরস্পর বিরোধী হতে পারে না। অনেকে বলেন, ওহী ও যুক্তির মাঝে পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু, এ আয়াতে দেখা যায়, ওহী ও যুক্তির উৎস একই। অর্থাৎ, ওহী আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা একটি আদেশ ও সুস্পষ্ট নিদর্শন, আবার হৃদয় পরিচালনাকারী রূহও আল্লাহর পক্ষে থেকে আসা একটি আদেশ ও সুস্পষ্ট নিদর্শন। দুটি একই উৎস থেকে আগত। সুতরাং, ওহী ও যুক্তির মাঝে কোনো পার্থক্য থাকতে পারে না। যদি কখনো ওহী...

সূরা কাহাফ : একটি রাজনৈতিক শিক্ষা

সূরা কাহাফে চারটি ঘটনার বর্ণনা আছে। এই চারটি ঘটনার সাথে জড়িত আছে চার ধরণের ফিতনা এবং তা থেকে মুক্তি পাবার উপায়। ঘটনাগুলো হলো – ১) আসহাবে কাহাফ বা গুহাবাসীদের ঘটক্ষা ২) দুই বাগানের মালিক ও তার বন্ধুর ঘটনা, ৩) মুসা (আ) ও খিজির (আ)-এর ঘটনা, এবং ৪) যুলকারনাইন এর ঘটনা, আর, ফিতনাগুলো হলো – ১) সমাজের ফিতনা, যেখানে ধর্ম ও বিশ্বাস টিকিয়ে রাখা যায় না। ২) সম্পদের ফিতনা, যা দিয়ে মানুষ নিজেকে সর্বাধিকারী মনে করে। ৩) জ্ঞানের ফিতনা, যা দিয়ে মানুষ অহংকার করে। এবং ৪) ক্ষমতার ফিতনা, যা দিয়ে মানুষ অন্যের উপর জুলুম করে। এবার আসুন, এই চারটি ঘটনার সাথে চারটি ফিতনার সংযুক্তি কি এবং এর থেকে মুক্তির উপায় কি, তা সূরা কাহাফ থেকে বিস্তৃতভাবে দেখে নেয়া যাক।

ধর্মকেও প্রোডাক্ট বা পণ্য বানিয়ে বিক্রি করে পুঁজিবাদ

"ধর্মকেও প্রোডাক্ট বা পণ্য বানিয়ে বিক্রি করে পুঁজিবাদ" - এই দাবী কমিউনিস্টদের। তাদের এই দাবীর ভ্রান্তি যেমন আছে, কিছুটা সত্যতাও আছে। এখন, আমি বা আপনি, আমরা কিভাবে বুঝব এটি? কিভাবে বুঝব - ধার্মিক বেশে কোনো পুঁজিবাদী ব্যক্তির খপ্পরে পড়েছি কিনা? কিংবা কিভাবে বুঝব - কমিউনিস্টদের এই দাবী কতটা সত্য এবং কতটা মিথ্যা? জবাব খুব সহজ। সূরা ইয়াসিনের ২০ ও ২১ আয়াত দুটি দেখুন। وَجَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَىٰ قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ “শহরের প্রান্তভাগ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এলো। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায় তোমরা রসূলগণের অনুসরণ কর ।” اتَّبِعُوا مَنْ لَا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُمْ مُهْتَدُونَ “অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, এবং তারাই সুপথ প্রাপ্ত ।” কোর’আনে স্পষ্ট যে, ধর্মের পথে যারা মানুষকে আহবান করে, তারা কোনো বিনিময় চায় না। এখন, আপনি যদি কোথাও দেখেন যে,

ছোট্ট একটি সূরা দিয়ে আরবি ভাষা শিখে ফেলুন

ছোট বেলায় কোর'আনের শেষ দশটি সূরা মুখস্থ করার সময় সবচেয়ে বেশি প্যাঁচ লাগতো সূরা কাফিরূনে, তাই নামাজে এ সূরাটা খুব কম পড়তে চাইতাম। কিন্তু পরে বুঝলাম, আরবি ভাষা শেখার জন্যে সূরা ‘কাফিরূন’ চমৎকার একটা উদাহরণ। খুবই ছোট্ট একটি সূরা, মাত্র ৬ আয়াত। قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ - 1 لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ - 2 وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ - 3 وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَا عَبَدْتُمْ - 4 وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ - 5 لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ - 6 অনুবাদ ১. বল, হে কাফেরগণ! ২. আমি তার ইবাদাত করি না, যার ইবাদাত তোমরা কর। ৩. এবং তোমরা তার ইবাদাতকারী নও, যার ইবাদাত আমি করি। ৪. এবং আমি তার ইবাদাতকারী নই, যার ইবাদাত তোমরা করছিলে। ৫. এবং তোমরা তার ইবাদাতকারী নও, যার ইবাদাত আমি করি। ৬. তোমাদের ধর্ম তোমাদের, আমার ধর্ম আমার। এই সূরাটা পড়ার সময় আপনি হয়তোবা ভেবেছেন, কি ব্যাপার? এখানে ‘ইবাদাত’ শব্দটা বারবার ঘুরেফিরে এতবার বলা হচ্ছে কেন? আসলে এখানে কাফিরদের উদ্দেশ্য করে [عبد] বা ‘ইবাদাত’ শব্দমূলটিকে আরবি ভাষার বিভিন্ন ভঙ্গীতে প্রকাশ করা হয়েছে। উদাহরণ – এক আরবি ব্যাকরণে বাক্য দুই...

কোর'আনের ভাষা কেন বাংলা নয়?

আপনি আফসোস করেছেন কিনা জানি না, তবে আমি ছোটবেলায় খুব আফসোস করতাম – “আহ!!! কোর’আন যদি বাংলা ভাষায় নাযিল হত!!! কত ভালো হত!!!” কিন্তু আল্লাহ বলছেন, إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ “আমি একে আরবি ভাষায় কোর'আন রূপে অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার।” [সূরা ইউসুফ, আয়াত – ২] আগে এ আয়াতটা পড়লে আমার মনে একটা প্রশ্ন জেগে উঠত, আমি বাঙালি, আরবি বুঝি না। কিন্তু আল্লাহ বলছেন, আমি আরবি ভাষায় কোর’আন নাযিল করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার। তার মানে কোর’আন কি কেবল আরব ভাষাভাষী মানুষদের জন্যে নাযিল হয়েছিল? এ প্রশ্নটার জবাব অনেক পরে পেয়েছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে, বাধ্য হয়ে যখন চর্যাপদ পড়তে হয়েছিল। কোর’আন নাযিলের প্রায় ৪০০ বছর পর চর্যাপদ লেখা হয়েছিলো, প্রাচীন বাংলা ভাষায়। কমেন্টের ঘরে সেই চর্যাপদের একটা ছবি দিয়েছি। দেখুন তো, পড়তে পারেন কিনা? আচ্ছা, ঠিক আছে। পড়তে না পারলে সমস্যা নেই। আধুনিক বাংলা অক্ষরে চর্যাপদের দুই লাইন এখানে তুলে দিচ্ছি। দেখুন তো, বুঝেন কিনা?

কোর'আনের সংখ্যাতাত্ত্বিক মুজিযা নিজে নিজেই যাচাই করুন!

কোর’আনকে সংখ্যা দিয়ে বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনটা কি? –এ প্রশ্ন অনেকেই করেন। আসলে আমাদের বর্তমান যুগে, চোখের সামনে আমরা যত প্রযুক্তি দেখছি, সব কিছুই সংখ্যার দ্বারা পরিচালিত। সব কিছুর ভাষা-ই সংখ্যা। কম্পিউটার বা মোবাইলের মত সকল প্রযুক্তি-ই আমাদের বাংলা বা ইংরেজি ভাষাকে চিনে না, সে চিনে কিছু বাইনারি সংখ্যাকে। আমরা যা-ই লেখি না কেন, সে এটাকে বাইনারি সংখ্যায় কনভার্ট করে নেয়। এই যে ফেইসবুকে বাংলায় এই লেখাটি পড়ছেন, এটাও কিন্তু আসলে কিছু সংখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। একটা যুগ ছিল সাহিত্যের। সে যুগে সাহিত্যকে চ্যালেঞ্জ করে কোর’আন নিজেই নিজের মুজিযা প্রকাশ করেছে। এরপর একটা যুগ ছিল জ্যোতির্বিদ্যার, সেই যুগে কোর’আন জ্যোতির্বিদ্যাকে চ্যালেঞ্জ করে নিজের মুজিযা প্রকাশ করেছে। এভাবে একের পর এক চলতে থাকে। কিন্তু, বর্তমান যুগ হলো সংখ্যার যুগ। সব কিছুকেই সংখ্যা দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়। তাই সংখ্যাতত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ করে কোর’আন এখন নিজেই নিজের মুজিযা প্রকাশ করছে। তো চলুন, হাতের কাছে কাগজ-কলম থাকলে, নিজে নিজেই কোর’আনের একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক মুজিযা বের করে ফেলি। খুব সহজে।

মানুষের তিনটি স্তরবিন্যাস

আল কোর’আনে বর্ণিত মানুষের চরিত্র নিয়ে গত সপ্তাহ একটা স্ট্যাটাস দেয়ার পর একজন ভাই আমার এক প্রিয় স্যারের কাছে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বললেন – “ইসলামে কি মানুষের ব্যাপারে শুধু নেতিবাচক বক্তব্যই আছে? সুন্দর সুন্দর অনেক উদাহরণ বা রহমতের কোথাও তো আছে। এগুলোর উল্লেখ করলে বরং মানুষ তা ভালোভাবে নিত, আমল করতে পারত।” আসলে, ভাইয়ার কথাটা ঠিক। তিনি দারুণ প্রশ্ন তুলেছেন। দেখুন, আল কোর’আন কিভাবে এ বিষয়টির চমৎকার ব্যাখ্যা করছে। মানুষকে বুঝানোর জন্যে আল কোর’আনে অনেকগুলো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন – বাশার [الْبَشَر ] নাস [النَّاس ], এবং ইনসান [ الْإِنْسَان ] এ তিনটি শব্দের অর্থই মানুষ। কিন্তু তিনটি শব্দ দ্বারা একই চরিত্রের মনুষকে বোঝানো হয় না। অর্থৎ, প্রত্যেকটি শব্দ-ই আলাদা আলাদা চরিত্রের মানুষকে নির্দেশ করে। আল কোর’আনের মুজেযা এটাই। কোর’আনে একই জিনিসের অনেকগুলো সমর্থক শব্দ থাকলেও প্রত্যেকটি শব্দের আলাদা আলাদা সংজ্ঞা থাকে। প্রতিটি শব্দ-ই ইউনিক। ফলে, কোর’আনের একটি শব্দের স্থানে অন্য কোনো সমর্থক শব্দ বসানো যায় না। বাশার, নাস এবং ইনসান – এ তিনটি শব্দ মানুষের তিনটি স্তরবিন্যাসকে নির্দেশ করে। মানুষের এই তিনটি স...

আল কোর'আনের আলোকে মানুষের বৈশিষ্ট্য

আল কোর’আনে মানুষের অনেকগুলো বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ রয়েছে। এগুলোকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করা যায়। এক – শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং দুই – চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলো হলো – ১. সুন্দর আকৃতি বিশিষ্ট। لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ “আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম অবয়বে।” [সূরা ৯৫/তীন – ৪] ২. দুর্বল প্রকৃতির। [সূত্র: সূরা ৪/নিসা - ২৮] ৩. শ্রম নির্ভর। [সূত্র: সূরা ৯০/বালাদ -৪] আর, মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো হলো –