সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

আকীদাপন্থী লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আকীদা পন্থী ও শবে বরাত পন্থী

১ শবে বরাত পন্থীদেরকে আপনি যদি বলেন, ‘ভাই, শবে বরাত তো কোর’আন ও হাদিসে নেই’; তাৎক্ষনিক সে আপনাকে ১০০০১ টি যুক্তি দিয়ে বলবে, ‘দেখুন, শবে বরাত কোর’আন ও হাদিসে না থাকলেও এটা ইসলামের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়’। তেমনি, আকীদা পন্থীদেরকে আপনি যদি বলেন, ‘ভাই, আকীদা তো কোর’আন ও হাদিসের কোথাও নেই’’ তাৎক্ষনিক সে আপনাকে ১০০০১ টি যুক্তি দিয়ে বলবে, ‘দেখুন, কোর’আন ও হাদীসে আকীদা না থাকলেও এটা কিন্তু ইসলামের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ২ শবে বরাত পন্থীদের যুক্তি হলো, কোর’আনে ‘লাইলাতুল মোবারক’ শব্দটি আছে, হাদিসে ‘নিসফে শাবাব’ শব্দটি আছে, সুতরাং শবে বরাত ইসলামের-ই একটি অংশ। আপনি যদি তাকে বলেন, ‘আচ্ছা, ঠিক আছে। আপনি ‘শবে বরাত’ শব্দটি ব্যবহার না করে, 'লাইলাতুল মোবারক' অথবা ‘নিসফে শাবান’ শব্দটি ব্যবহার করুন’। সে আপনার যুক্তি মানবে না। তেমনি,

'আকিদা'র হাকিকত

‘আকীদা’ শব্দটি এমন একটি শব্দ, যা দিয়ে মুসলিমদের মাঝে বিভক্তি ঘটানো হয়। ফলে এ শব্দটি এখন খুবই বিপদজনক হয়ে গেছে। কথিত এক ' এমাম ' তাঁর জনসভায় বলেছেন, “ধর্মের প্রথম হলো আকীদা, তারপর হলো ঈমান, তারপর ইসলাম। যার আকীদা ঠিক নেই, তার ঈমান ও ইসলাম কিছুই ঠিক নেই।” আমার জানার খুব ইচ্ছা, তিনি ‘আকীদা’ শব্দটি কোথায় পেলেন? কোর’আন ও হাদিসের কোথাও যে শব্দটি নেই, তা না থাকলে নাকি ঈমান ও ইসলাম কিছুই থাকে না!!! আকীদাপন্থীদের এ এক সমস্যা। ধর্মে যা নেই, তাই তারা ধর্মের মৌলিক ভিত্তি হিসাবে চালিয়ে দেয়। সাহাবীগণ ও সালফে সালেহীন কেউ যে শব্দটি ব্যবহার করেননি, সে শব্দটি দিয়েই এখন সাধারণ মুসলিমদেরকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। অথচ, ‘আকীদা’ ধর্মের মৌলিক কোনো বিষয় নয়। আল্লাহ তায়ালা ধর্মের মৌলিক বিষয়গুলো সাহাবীদেরকে শিক্ষা দেয়ার জন্যে স্বয়ং জিবরাঈল (আ)-কে মানুষের আকৃতিতে সাহাবীদের সামনে উপস্থিত করলেন। এ ঘটনাটিকে আমরা হাদিসে জিবরাঈল হিসাবে জানি।

শত শত পন্থীদের ভিড়ে

আপনি যদি শুধু মুসলিম হন, তাহলে অন্যরা আপনার সমালোচনা করবে। কিন্তু আপনি যদি ‘আহলে হাদিসপন্থী’, ‘মাজারপন্থী’, ‘সহীহ আকীদাপন্থী’, ‘পীরপন্থী’, ‘তরীকাপন্থী’ 'তাবলীগপন্থী', 'আওয়ামীপন্থী', বিএনপিপন্থী, ইত্যাদি হন, তাহলে আপনার দলের মানুষ আপনাকে খুব ভালোবাসবে। দেখুন, কোনো ব্যক্তি, আলেম, স্কলার বা পীর ইসলামের মালিক বা অথোরিটি হতে পারেন না। ইসলামের একমাত্র অথোরিটি আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল (স)। সুতরাং মুসলিম হওয়ার জন্যে আপনাকে কোনো ‘পন্থী’ হতে হবে না। একজন মানুষ পৃথিবীর যত বড় পীর, শাইখ বা স্কলার হোন না কেন, সবাই ইসলামের অনুসারী ও অনুসন্ধানী। আমরা সবাই পৃথিবীর পরীক্ষার হলে আছি। আমরা সবাই পরীক্ষার্থী। কেউ কেউ নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট দাবী করে অন্যদের বহিষ্কার করতে শুরু করেন। অথচ তারা জানেন না, তারা নিজেরাও পরীক্ষার্থী। এক পরীক্ষার্থী অন্য পরীক্ষার্থীকে ঠিক বা বেঠিক বলার অধিকার আল্লাহ তায়ালা আমাদের কাউকে দেননি।