সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

অর্থনীতি লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ইবনে খালদুন সম্পর্কে রোনাল্ড রেগান

কার্ল মার্ক্সকে পড়ার আগে আমাদেরকে ইবনে খালদুন পড়া উচিত। অনেকে মনে করেন, “ইবনে খালদুনের চিন্তাকে আরো সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন কার্ল মার্ক্স। সুতরাং, কার্ল মার্ক্সকে পড়লে এখন আর ইবনে খালদুনকে পড়ার প্রয়োজন হয় না।” কথাটি একেবারেই সত্য নয়। পশ্চিমা বিশ্বে যত বড় বড় অর্থনীতিবিদের জন্মই হোক না কেনো, এখনো সারাবিশ্বে ইবনে খালদুনের প্রয়োজনীয়তা, জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, অ্যামেরিকার ৪০তম প্রেসিডেন্ট Ronald Reagan এর একটি বক্তব্য আমি এখানে বাংলা সাব-টাইটেল করে দিয়েছি। রোনাল্ড রেগান এর সময়ে অ্যামেরিকা সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সচ্ছলতা লাভ করে। এর কারণ হিসাবে রেগান বলেন, তিনি ইবনে খালদুনের একটি তত্ত্ব মেনে চলতেন। ইবনে খালদুন বলেন –

সুদ মূর্তি পূজার চেয়েও বড় শিরক

মূর্তির সাথে সাথে সুদ ব্যবস্থারও বিরোধিতা করা উচিত। কারণ, মূর্তির চেয়েও বড় শিরক হলো সুদ ব্যবস্থা। কোর’আনে বলা হয়েছে, যারা সুদের ব্যবসা করে, তারা আল্লাহ তায়ালার সাথে যুদ্ধ করে। فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا۟ فَأْذَنُوا۟ بِحَرْبٍۢ مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ۖ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَ‌ٰلِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ অর্থাৎ, “তোমরা যদি সুদের ব্যবসা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নি জের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করবে না এবং তোমাদের সাথেও কেউ অত্যাচার করবে না ।” [সূরা ২/বাকারা - ১৭৯] এ আয়াতটিকে আমি যেভাবে বুঝেছি – পৃথিবীর যাবতীয় অপরাধের মূল হলো অর্থের লোভ। অর্থের প্রতি লোভ থাকার কারণে মানুষ সুদের পন্থা আবিষ্কার করে। সুদ ব্যবস্থা তখনি শুরু হয়, যখন মানুষ দান-সদকা করতে চায় না। আর দান-সদকা তখনি মানুষ করতে চায় না, যখন তার অন্তরে দয়া ও ভালোবাসা থাকে না। মানুষের হৃদয়ে তখনি দয়া ও ভালোবাসার পরিধি বৃদ্ধি হয় না, যখন তার কাছে সত্যের জ্ঞান না থাকে। আর, সত্যের জ্ঞান মানে হলো আল্লাহ তায়ালা...