সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

শায়েখ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কোন স্কলারের কথা শুনবো?

এ হুজুর বলেন, ঐ হুজুরের কথা শুনবেন না। ঐ হুজুর বলেন, এ হুজুরের কথা শুনবেন না। এ শায়েখ বলেন, ঐ শায়েখের কথা শুনবেন না। ঐ শায়েখ বলেন, এ শায়েখের কথা শুনবেন না। ফলে, সাধারণ মানুষ পড়ে বিপাকে। তারা তখন বলতে থাকেন, ইসলামের মধ্যে এতো বেশি মত কেন? আসলে কোর'আন ও হাদিসের সব কথা তো লিখাই আছে, তা আমরা সবাই পড়তে পারি। কোনো হুজুর বা শায়েখ যখন কোর'আন বা হাদিসের কোনো কথা ব্যাখ্যা করেন, তখন তিনি কোর'আন ও হাদিস থেকে সরাসরি কোনো উদ্ধৃতি দেয়ার আগে ও পরে যত কথা বলেন, সবি তার নিজের কথা। আপনার ইচ্ছে  হলে সে কথাগুলো মানবেন, আর ইচ্ছা না হলে মানবেন না, এতে কোনো সমস্যা নেই। পৃথিবীতে যত মানুষ আছে, ততটা মত হওয়াটাই স্বাভাবিক। আল্লাহ মানুষকে শারীরিকভাবে যেমন ভিন্ন ভিন্ন তৈরি করেছেন, তেমনি মানসিক ভাবেও ভিন্ন ভিন্ন তৈরি করেছেন। একজন আলেম বা শায়েখের কথা অন্য একজনের সাথে মিলবে না, এটাই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে কোর'আনের নির্দেশনা হলো, সব হুজুর বা শায়েখের কথা শুনা। এরপর, যার কথা আপনার কাছে সুন্দর ও যুক্তিযুক্ত মনে হবে, তার কথা মেনে চলা। আল্লাহ তায়ালা বলেন - الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْس...

হাফিজ, মাওলানা, মুফতি, মাদানী

আবু মানসুর আল মাতুরিদি অনেক বড় আলেম ছিলেন। আবু হানিফার মতই বড়। তারপরেও তিনি খুব স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতেন। একদিন আব্বাসীয় এক খলিফা জরুরী প্রয়োজনে তাঁর নিকট প্রতিনিধি পাঠালেন। খলিফার প্রতিনিধি এসে ইমাম মাতুরিদিকে দেখে একজন সাধারণ মানুষ মনে করেছিলেন। তাই তিনি ইমাম মাতুরিদিকে জিজ্ঞাস করলেন - মাওলানা সাহেব কোথায়? ইমাম মাতুরিদি বললেন - মাওলানা তো আল্লাহ। প্রতিনিধি বললেন - আচ্ছা, ঠিক আছে। উস্তাদ কোথায় তা বল। ইমাম মাতুরিদি বললেন - উস্তাদ তো রাসূল (স)। প্রতিনিধি বললেন - আরে বেকুব! আবু মানসুর আল মাতুরিদি কোথায়? ইমাম মাতুরিদি বললেন - এই তো আমি আল্লাহর বান্দা আবু মানসুর আল মাতুরিদি। [সূত্র: ইমাম মাতুরিদি গবেষক Prof. Dr. Sönmez Kutlu] ______ বর্তমানে অনেকেই খ্রিষ্টান পাদ্রিদের মত নিজেদেরকে বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করেন। যেমন, মাওলানা, মুফতী, হাফেজ, শায়খ, উস্তাদ, মাদানী, আল আজহারি, ইত্যাদি। অন্যরা বললে সমস্যা নেই, কিন্তু কেউ যখন নিজেই নিজের নামের আগে এসব শব্দ যুক্ত করেন, তখন তাতে তাঁর অহংকার ও অজ্ঞতা ফুটে উঠে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ধর্মীয় অহংকার থেকে মুক্ত করুক।