সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

কবিতা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দেনমোহর

ওদের আছে অনেক কিছু বাড়ি, গাড়ি, টাকা আমার ওসব কিছুই নেই পকেটটাও ফাঁকা নেই নেই তো কিছুই নেই বিয়ের মাহর কেমনে দেই? কিন্তু জানো? বুকের ভিতর এক জিনিসে ঠাসা, তাঁহার জন্যে এই হৃদয়ের শুদ্ধ ভালোবাসা।

থার্টি ফাস্ট

সেদিন তুমি বলেছিলে, “আসার সময় কিছু হাঁসের ডিম নিয়ে এসো” নিরামিষ সবজি তোমার পছন্দ না কম দামী ডিমটাই তোমার পছন্দ। আমি বলেছিলাম, “আচ্ছা, ইনশাল্লাহ” কিন্তু তুমি জানতে না, পকেটে আমার একটি টাকাও ছিলো না তখন, কিছু কেনার খালি হাতেই ঘর থেকে বেরিয়েছিলাম। দিনভর কাজ নেই, মন খারাপ, ফিরছিলাম রাস্তায় দেখি, ময়লায় পড়ে আছে থার্টি ফাস্ট নাইটের একটি বেলুন তুলে নিলাম, ঘরে গিয়ে তোমায় দিলাম। তুমি জিজ্ঞেস করলে আমায় “বেলুনের দামে কি একটা ডিম পাওয়া যায় না?” তোমায় উত্তর দেয়ার মতো কোনো শব্দই আমার জানা ছিলো না।

ডিজিটাল প্রেমের ছড়া

তুমি আমার সকাল বেলার দুইটা সিদ্ধ ডিম, তুমি আমার দৌড়াদৌড়ি পেট কমানোর জিম। তুমি আমার ফেইসবুকের একশ একটা শেয়ার তুমি আমার পড়ার টেবিল ঘুম পাড়ানি চেয়ার। তুমি আমার ইউটিউবের পছন্দের এক লেকচার, তুমি আমার কি-বোর্ডের আঙ্গুলের ঘর F, J, R তুমি আমার মোটা একটা একাডেমিক বই, তুমি আমার জীবন মরণ তুমি আমার সই

নারীবাদীদের ইসলাম বিরোধিতার কারণ

নারীবাদীদের ইসলাম বিরোধিতার কারণ হলো পৃথিবীর ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতা ____ এক ____ সরোজিনী নাইডু। তিনি একজন বাঙালী হিন্দু নারী। একজন কবি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আমাদের দেশের বর্তমান সেক্যুলার বাঙালী নারীদের মত তিনি এতোটা উগ্রবাদী ও অকর্মণ্য ছিলেন না। একজন নারী হয়েও তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে তার খুবই উচ্চ ধারণা ছিলো। আমাদের দেশের নারীবাদীদের মতো তিনি কখনোই ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলতেন না। বরং তিনি বলতেন, ইসলাম ভারতবর্ষের জন্যে একটি আশীর্বাদ স্বরূপ। তিনি বলেন – “The loveliest thing that Islam brought to India is the saying of Prophet that "Paradise lies under the feet of the mother". “ইসলাম ধর্ম সবচেয়ে প্রিয় যে জিনিসটি ভারতবর্ষে নিয়ে এসেছে, তা হলো রাসূল (স) এর এই কথাটি – “মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত”। সরোজিনী নাইডু এর মতো আমাদের দেশের নারীবাদীরা যদি ইসলামকে বোঝার চেষ্টা করতেন, তাহলে নারীদের অধিকার আন্দোলনে তারা আরো অনেক বেশি প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে পারতেন।

আরেকটি হৃদয় কর দান

হে প্রভু, আমার হৃদয় এতো বড়ো নয় যেখানে ভালোবাবাসার জায়গা হয়,   এ বুকে আরেকটা হৃদয় কর দান যেখানে হবে তাঁর উপযুক্ত স্থান।   প্রথমত, তুমি আমার ভালোবাসা দ্বিতীয়ত, তুমি আমার ভালোবাসা অষ্টম, নবম, দশম, তুমি আমার ভালোবাসা।   يا رب قلبي لم يعد كافيا لأن من أحبها .. تعادل الدنيا فضع بصدري واحدا غيره يكون في مساحة الدنيا   فأولا: حبيبتي أنت وثانيا: حبيبتي أنت وثامنا وتاسعا وعاشرا.. حبيبتي أنت

প্রিয় কিছু ইসলামী সঙ্গীত

১ পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয়.. মরন একদিন মুছে দেবে সকল রঙ্গিন পরিচয় । মিছে এই মানুষের বন্ধন, মিছে মায়া স্নেহ প্রীতি ক্রন্দন । - ২ মিছে এই জীবনের রংধনু সাতরং, মিছে এই দুদিনের অভিনয় ।। মিছে এই ক্ষমতার দ্বন্দ, মিছে গান কবিতার ছন্দ । - ২ মিছে এই আভিনয় নাটকের মঞ্চ, মিছে এই জয় আর পরাজয় ।।

ন্যায় কি অন্যায়?

রূমি ছিলেন প্রেমের কবি। তাঁকে বলা হলো - ন্যায় কি? বললেন - গাছে পানি দেওয়া। বলা হলো - অন্যায় কি? বললেন - গাছের কাঁটায় পানি দেওয়া। _____ হে 'বন্ধু' দেশ! শোকের মাসে আমাদের কন্নায় চোখের পানি ভেসে যায় বন্যায় এ তোমার ন্যায় কি অন্যায়?

কাঁদো

শোকের মাস, আগস্টে কাঁদো বাঙালি, কাঁদো বাংলাদেশের জন্যে কাঁদো, সারা বিশ্বের জন্যে কাঁদো। গণতন্ত্রের জন্যে কাঁদো। হাজারো তরুণ তরুণীর প্রাণের জন্যে কাঁদো, মিশরের জন্যে কাঁদো। কাঁদো, রাবেয়ার জন্যে কাঁদো। [১৪ আগস্ট ২০১৩, মিশরের রাবেয়া স্কয়ারে খুন করা হয় হাজারের অধিক গণতন্ত্র কর্মীকে]

সুখ

রহিমা চাচীকে বলি, সুখ কি? বলে, হাঁস আছে, মুরগি আছে, গরু আছে দুটি, আমার বাবা সুখের অভাব কি। শহরের মিথিলাকে বলি, সুখ কি? বলে, আত্মহত্যা ছাড়া সুখ আবার কি। ওরা সুখের সন্ধানে পড়ি দেয় কত সাগর, কত নদী দেশ, বিদেশ কত কি। গ্রামের রহিমা চাচী, হাঁসটা ঘরে ফিরলেই সুখী।

বাংলা সাহিত্যে "স্বামী-স্ত্রী" সমস্যা, এবং কোর'আনের সমাধান

পর্ব এক ‘স্বামী-স্ত্রী’ শব্দ জোড়াটি নিয়ে বাংলা সাহিত্যে প্রচুর তর্ক-বিতর্ক আছে। এ শব্দ দুটি যেমন আপত্তিজনক, তেমনি বিপদজনকও বটে। বেগম রোকেয়া, ফরহাদ মজহার সহ অনেকেই এ শব্দগুলো নিয়ে আপত্তি তুলেছেন, বিতর্ক করেছেন এবং সমাধানের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলেও সত্য যে, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ‘স্বামী-স্ত্রী’ শব্দের সঙ্কট এখনো প্রকট। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ‘স্বামী-স্ত্রী’ শব্দ জোড়াটি নিয়ে যদিও এখনো কেউ কোনো মীমাংসায় যেতে পারেনি, কিন্তু, আপনি ইচ্ছা করলেই কোর’আন থেকে ‘স্বামী-স্ত্রী’ শব্দে র সঙ্কট নিরসন করতে পারবেন। প্রথমে আসুন, দেখা যাক, বাংলা সাহিত্যে ‘স্বামী-স্ত্রী’ শব্দ জোড়াটি এবং এর সমর্থক শব্দগুলো কেন আপত্তিজনক? বাংলা একাডেমীর অভিধানে, ‘স্বামী’ শব্দের অর্থ হলো – ১ প্রভু; মনিব; পতি; খসম; ভর্তা। ২ মালিক; অধিপতি। ৩ পণ্ডিত; সন্ন্যাসীর উপাধিবিশেষ। এবং একই অভিধানে, ‘স্ত্রী’ শব্দের অর্থ হলো – ১ জায়া; পত্নী; বেগম; বিবি; বিবি; বধূ। ২ নারী; রমণী; কামিনী। ৩ মাদি। সুতরাং, এখানে দেখতেই পাচ্ছেন যে, ‘স্বামী’ ও ‘স্ত্রী’ শব্দ দুটির মাঝে শব্দগত কোনো সাদৃশ্য নেই, অর্থের কোনো সঙ্গতি নেই, এবং মর্যাদাগত কোন...

ভালোবাসা

এই দুনিয়ায় আসি মোরা, ভালোবাসার জন্য ভালোবাসা ছাড়া মোদের, নেই কোনো কাজ ভিন্ন। শরীরের কোষগুলো সব, ডেকে বলে আল্লাহ তোমায় ছাড়া দেখি না কিছু, সোবহান আল্লাহ। আসমান জমিন প্রতি ক্ষণে, ডেকে বলে আল্লাহ অহংকার নাই হয়ে যায়, তোমায় দেখে আল্লাহ ভালোবাসা যে পায়, সে দুনিয়ার আর কি চায়? দমে দমে তাই সে বলে আল্লাহ ও আল্লাহ। [তুরস্কের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্যে তাঁদের বিখ্যাত একটি গানের বাংলা অনুবাদ করে দিলাম।] https://youtu.be/XFPeblMoqTw

আলো

জ্ঞানের পথে, প্রথম ধ্যান। জ্ঞান কি আলো? না, আলো-ই জ্ঞান? জ্ঞানের আলো? না, আলোর জ্ঞান? রবি বলে – আলো আমার, আলো ওগো, আলো ভুবন-ভরা। আলো নয়ন-ধোওয়া আমার, আলো হৃদয়-হরা। সে বলে – আলোয় আলোয় খেলা, আলোয় জ্ঞানের মেলা। আলোর আলো তুমি, কালোর আলো তুমি। চাঁদ, সূর্য, তোমার আলো তুমি বিনে নেই আলো, যা দেখ, তাই আলো তুমি ছাড়া সব কালো। আমি বলি – জ্ঞান তুমি, আলো তুমি, আমি দেখি শুধু তুমি, পাই না নিজ আমি দেখি আলো, কই আমি? সূত্র [২৪:৩৫]

আজব দেশ

আজব দেশের নাম শুনেছি দাদা-দাদীর মুখে, সেই দেশটি দেখার খুবই ইচ্ছা ছিল বুকে। হঠাৎ একটি দৈত্য এসে বদলে দিল সব, মোদের দেশটা হয়ে গেল একেবারে আজব। দাদা-দাদীর আজব দেশে সুখ ছিল না শেষ, কিন্তু মোদের আজব দেশে দুঃখের তো নেই শেষ। বলব তোমায়? আজব দেশের দুঃখের কাহিনী? আছে কিনা? আশেপাশে পুলিশ বাহিনী? আজব দেশের মানুষেরা প্যাঁচার পূজা করে, মঙ্গল শোভা না করলে পুলিশ তারে ধরে। মুখের দাঁড়ি বড় হলে জঙ্গি তারে বলে, ক্রসফায়ার করে তারে ফেলে নদীর জ্বলে। আজব দেশের দুঃখ বলে, হবে না তো শেষ। বলতে পার? নাম কি ওটার? প্রিয় বাংলাদেশ!!

কেমন হত?

মানুষ যদি পাখি হত, তখন কি ভিসা হত? আমাদের ফেলানীরা তখন কি গুলি খেত? বিএসএফ হায়েনারাও তখন কি মানুষ হত? দিল্লীর দালালেরা তখন কি গরু হত? বাংলার মিডিয়া তখন কি অন্ধ হত? মোদের দুঃখ, হাসি না তখন কি ভারত যেত?

স্বাধীনতা কারে কয়?

এক, দুই, তিন আমরা কি স্বাধীন? চার, পাঁচ, ছয় স্বাধীনতা কারে কয়? সাত, আট, নয় দেশ কি মোদের নয়? দশ, এগারো, বারো ভয় কি কর কারো? – তেরো, চোদ্দো, পনেরো কোর’আনটাকে ধরো। ষোল, সতের, আঠারো ভালো করে পড়ো। উনিশ, বিশ, একুশ আসবে ফিরে হুঁশ। হবে স্বাধীন মানুষ।।

৭১ দেখিনি, তো!

আমি, ৭১ দেখিনি তো কি হয়েছে? ১৭ দেখেছি তো। আমি, দেখিনি পাকিস্তান, কিন্তু, ভারত দেখেছি তো। দেখিনি হানাদার, কিন্তু, বিএসএফ দেখেছি তো। আমি, গেরিলা বাহিনী দেখিনি তো কি হয়েছে, ‘জঙ্গি’ শিশুর লাশ দেখেছি তো। মুক্তিযোদ্ধা বোনদের দেখিনি তো কি হয়েছে, ফেলানীদের দেখেছি তো। আমি, দেখিনি ইয়াহিয়া খান, কিন্তু, শে. রাক্ষসীকে দেখেছি তো। দেখিনি অপারেশন সার্চলাইট, কিন্তু, ক্রসফায়ার দেখেছি তো। তরুণ আমি, শেখ মুজিবকে দেখিনি তো কি হয়েছে, হাজারো নিরাপরাধ কারাবন্ধী দেখেছি তো। রেসকোর্স ময়দান দেখিনি তো কি হয়েছে, শাপলা চত্বর দেখেছি তো। নেতা ভাসানীকে দেখিনি তো কি হয়েছে, লাখো মজলুমের অসহ্য কষ্ট দেখেছি তো। জাহানারা ইমামকে দেখিনি তো কি হয়েছে, অগণিত মায়ের আকাশ বিদীর্ণ কান্না দেখেছি তো। আমি, দেখিনি বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, কিন্তু, বিজ্ঞ আলেমের ফাঁসি দেখেছি তো। দেখিনি ৭১-এর নারী ধর্ষণ, কিন্তু, ১৭-এর হোলি উৎসব দেখেছি তো। গুরু বলেন – তুমি, ৭১-এর বৃদ্ধ নও, ১৭-এর তরুণ। ৭১ পিছনের নয়, দেখ সামনের ৭১ পুরানো ইতিহাস তোমার লিখতে হবে না আর, তুমি-ই তো হবে একবিংশে স্বাধীনতার রূপকার।

রক্তের সম্পর্ক

সে অনেক আগের কথা, দেন-মোহর নিয়ে যাকে বিয়ে করেছিলাম, ঐ-স্বামী মারা গেছে, এরপর, কত একাত্তর গেল! নিজ পিতা হারিয়ে বুঝি – সন্তানের পিতার অভাব। সোনা-দানা চাই না আমি, তোমার নিমন্ত্রণ-ই আমার সর্বসুখ।। দিন বদলে গেছে, অনেক অনেক উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে গেছে সংস্কৃতি, দেন-মোহর চাই না আর, পণ দিয়ে সম্পর্ক গড়ব এবার! 'উভয়' দেশে, 'উভয়' পক্ষের কাবিননামায় পণ-চুক্তি হবে, সব পাবে, তুমি যা চাইবে। তুমি চাইলে, গোটা বাংলাদেশ তোমায় যৌতুক দিতে পারি। বল, ভবিষ্যৎ সন্তানের জন্যে গড়বে রক্তের সম্পর্ক? তাজমহল চাই না আমি, বাংলাদেশের বিনিময়ে, খুব ছোট্ট একটা স্থান কি হবে? নয়াদিল্লীর রাজ-প্রাসাদে?

পরিবার

নারী, পুরুষের বাগান, সন্তানের জান্নাত। পুরুষ, নারীর বৃক্ষ, সন্তানের ছায়া। সন্তান, মায়ের রক্ত, বাবার বংশ।

কন্যা

কন্যা! থেমিস কেন? আদালত মন্দিরে চাই তোমার মূর্তি। ধর্ষক, না, সোনার ছেলেরা উৎসাহ পাবে, তোমায় দেখে; তুমি অপকর্মের শুরু। সাক্ষী, না, মিথ্যুকেরা লজ্জা পাবে, তোমায় দেখে; তুমি চেতনার গুরু।। থেমিস নয়, দেবী নয়, প্রতিমা নয়, কোনো ভাস্কর্য নয়, – চাই তোমার মূর্তি, জ্বলে উঠুক চেতনার মন্দিরে। পুলিশ, না, খুনির রাইফেল উঁচু হবে, তোমায় দেখে; তুমি নেতা ওদের দলে। হাকিম, না, জল্লাদের মাথা নত হবে, তোমায় দেখে; পরাজিত সবে, তোমার বলে।। কন্যা, থেমিস নয়, শুধু তোমাকে চাই; যেন দেখে ভয় পাই।