সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মানুষ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মানুষ, প্রাণী ও বস্তুর সাথে ভাষার সম্পর্ক

আমাদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয়, ভাষা মানে কি? তখন আমাদের মনে “অ, আ, ক, খ” এমন বর্ণগুলো ভাসতে থাকে। এ কারণে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি আসলেই চতুর্দিকে বিভিন্ন পোষ্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ডে আমরা বাংলা বর্ণগুলো নিয়মিত দেখতে পাই। এরপর, আমাদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয়, মাতৃভাষা কাকে বলে? তখন ছোটবেলায় মায়ের কাছে আমরা যে ভাষাটি শিখেছি, তা মনে পড়ে। আসলে ভাষা মানে চোখে দেখা কয়েকটি অক্ষর, অথবা, কানে শুনা কয়েকটি শব্দ নয়। ভাষা মানে হচ্ছে ভাবের বিনিময়। আমাদের মনে যখন কোনো একটি ভাবের উদয় হয়, তখন সে ভাবটি অন্যের নিকট উপস্থাপন করাকেই ভাষা বলে। মানুষের জন্যে ভাব প্রকাশ করার সবচেয়ে সহজ ও প্রাচীন মাধ্যম হলো মুখ দিয়ে শব্দ উচ্চারণ করা, এবং কান দিয়ে তা শুনা। কিন্তু, প্রাচীন কালে কথা বলার মাধ্যমে যে ভাব প্রকাশ করা হতো, তা খুব অস্থায়ী ও সীমিত রূপ ধারণ করতো। কারণ, মুখে কোনো শব্দ উচ্চারণ করার সাথে সাথে তা বাতাসে মিশে যেতো। তখন মুখের আশেপাশে থাকতো, তারাই কেবল মুখে উচ্চারিত শব্দগুলোর ভাব বুঝতে পারতো।

মানুষের বিবর্তন

এক আখিরাতে কিভাবে আমাদের উত্থান হবে, তা জানার জন্যে সৃষ্টির বিবর্তনকে ভালোভাবে বুঝা প্রয়োজন। [বিস্তারিত দেখুন, আল কোর’আন; সূরা ২৯/আনকাবুত – ১৯ ও ২০ নং আয়াত] দুই আমরা সবাই জানি, চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্বের মাঝে অনেক অসঙ্গতি ও ত্রুটি রয়েছে। বিজ্ঞান এসব ত্রুটি বের করতে করতে হয়তো আরো কয়েক‘শ বছর লেগে যেতে পারে। কিন্তু, মুসলিমরা ইচ্ছা করলে, আল কোর’আনের সাহায্যে আধুনিক বিবর্তনবাদ তত্ত্বের সঠিক বিবর্তন ঘটিয়ে এখনি একটি বিশুদ্ধ ও পূর্ণ তত্ত্ব হাজির করতে পারবে। মুসলিম বিজ্ঞানীরা যদি চমৎকার এ সুযোগটি কাজে না লাগাতে পারে, তাহলে একশ বছর পর বলবে – “দেখুন, বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত বিবর্তনবাদ কিন্তু কোর’আনের এই...এই... আয়াতগুলোর মধ্যে রয়েছে”। দেখুন, আল কোর’আন, ৭৬: ১, ৭১: ১২-১৪, ৩২: ৭, ৯৫: ৪, ৬৭: ৩-৪, ৬: ১৩৩-১৩৪, ৭৬: ২৮, ২০: ৫৩, ২৪: ৪৫, ৬: ২, ৩২: ৭, ৩৭: ১১, ৫৫: ১৪, ২৩: ১২, ৭: ১১, ৮২:৭-৮

ফেরেশতা, জিন ও মানুষের সম্পর্ক

প্রতিটি মানুষের মাঝে দুটি সত্ত্বা থাকে। একটি জিন সত্ত্বা, এবং অন্যটি ফেরেশতা সত্ত্বা। জিন সত্ত্বা মানুষকে সবসময় খারাপ কাজের আদেশ দেয়, আর ফেরেশতা সত্ত্বা মানুষকে সবসময় ভালো কাজের আদেশ দেয়। মানুষের কাজ হলো, ফেরেশতা সত্ত্বার দ্বারা জিন সত্ত্বাকে প্রতিহত করা। মানুষের ভিতরের ফেরেশতা সত্ত্বা যদি কখনো তার জিন সত্ত্বাকে হারাতে পারে, তাহলে মানুষ মুসলিম হতে পারে। কিন্তু জিন সত্ত্বা যদি ফেরেশতা সত্ত্বাকে হারিয়ে দেয়, তাহলে মানুষ শয়তান হয়ে যায়। এ কারণে, ইসলামে ফেরেশতাকে বিশ্বাস করতে বলা হয়েছে, কিন্তু জিন ও শয়তানকে বিশ্বাস করতে বলা হয়নি। রেফারেন্স:

মানুষের তিনটি স্তরবিন্যাস

আল কোর’আনে বর্ণিত মানুষের চরিত্র নিয়ে গত সপ্তাহ একটা স্ট্যাটাস দেয়ার পর একজন ভাই আমার এক প্রিয় স্যারের কাছে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বললেন – “ইসলামে কি মানুষের ব্যাপারে শুধু নেতিবাচক বক্তব্যই আছে? সুন্দর সুন্দর অনেক উদাহরণ বা রহমতের কোথাও তো আছে। এগুলোর উল্লেখ করলে বরং মানুষ তা ভালোভাবে নিত, আমল করতে পারত।” আসলে, ভাইয়ার কথাটা ঠিক। তিনি দারুণ প্রশ্ন তুলেছেন। দেখুন, আল কোর’আন কিভাবে এ বিষয়টির চমৎকার ব্যাখ্যা করছে। মানুষকে বুঝানোর জন্যে আল কোর’আনে অনেকগুলো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন – বাশার [الْبَشَر ] নাস [النَّاس ], এবং ইনসান [ الْإِنْسَان ] এ তিনটি শব্দের অর্থই মানুষ। কিন্তু তিনটি শব্দ দ্বারা একই চরিত্রের মনুষকে বোঝানো হয় না। অর্থৎ, প্রত্যেকটি শব্দ-ই আলাদা আলাদা চরিত্রের মানুষকে নির্দেশ করে। আল কোর’আনের মুজেযা এটাই। কোর’আনে একই জিনিসের অনেকগুলো সমর্থক শব্দ থাকলেও প্রত্যেকটি শব্দের আলাদা আলাদা সংজ্ঞা থাকে। প্রতিটি শব্দ-ই ইউনিক। ফলে, কোর’আনের একটি শব্দের স্থানে অন্য কোনো সমর্থক শব্দ বসানো যায় না। বাশার, নাস এবং ইনসান – এ তিনটি শব্দ মানুষের তিনটি স্তরবিন্যাসকে নির্দেশ করে। মানুষের এই তিনটি স...

আল কোর'আনের আলোকে মানুষের বৈশিষ্ট্য

আল কোর’আনে মানুষের অনেকগুলো বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ রয়েছে। এগুলোকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করা যায়। এক – শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং দুই – চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলো হলো – ১. সুন্দর আকৃতি বিশিষ্ট। لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ “আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম অবয়বে।” [সূরা ৯৫/তীন – ৪] ২. দুর্বল প্রকৃতির। [সূত্র: সূরা ৪/নিসা - ২৮] ৩. শ্রম নির্ভর। [সূত্র: সূরা ৯০/বালাদ -৪] আর, মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো হলো –