সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মন লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

একনজরে রূহ, প্রজ্ঞা, জ্ঞান, হৃদয়, মন, দেহ, কামনা, নফস, শয়তান

মানব শরীর অনেক জটিল প্রক্রিয়ায় কাজ করে। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মানুষের জন্যে একজন ফেরেশতা ও একজন শয়তান নিয়োগ করেন। ফেরেশতা মানুষের রুহের সাথে সম্পর্কযুক্ত, এবং শয়তান মানুষের নফসের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আল্লাহ ও ফেরেশতাদের বার্তাগুলো 'রূহ' নামক ডাকপিয়ন বিবেকের সাহায্যে মানুষের হৃদয়ের কাছে পাঠায়। এবং শয়তানের বার্তাগুলো 'হাওয়া' নামক ডাকপিয়ন নফসের সাহায্যে মানুষের হৃদয়ের কাছে পাঠায়। হৃদয় হলো মানুষের রাজা। সে কখনো নফসের বার্তা অনুযায়ী কাজ করে, আবার, কখনো রূহ ও বিবেকের বার্তা অনুযায়ী  কাজ করে। হৃদয় যখন নফসের কথা শুনে, তখন সে অন্ধকার ও অজ্ঞতার দিকে ধাবিত হয়। কিন্তু হৃদয় যখন রূহের বার্তা শুনে, তখন সে আলো ও জ্ঞানের দিকে ধাবিত হয়। বিবেক হলো জ্ঞানকে কাজে লাগানোর যন্ত্র। অনেক মানুষের জ্ঞান আছে, কিন্তু বিবেক না থাকায়, সে রূহের নির্দেশনা বুঝতে পারে না। দেহ ও প্রাণ আলাদা জিনিস। মানুষ ছাড়াও অন্য প্রাণীদের দেহ ও প্রাণ রয়েছে। কিন্তু, রূহ ও শয়তান কেবল মানুষের জন্যেই নিযুক্ত করা হয়েছে।

হার্ট ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক

হার্ট ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক নিয়ে গতকাল ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার পর একজন ভাইয়া আমাকে ১টি প্রশ্ন ও ২টি মন্তব্য করেছেন। ভাইয়ার প্রশ্ন ও মন্তব্যগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নটি হলো – “আচ্ছা, হার্টকে আপনি যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং কোরআনের আয়াত দিয়ে যেভাবে উপসংহার টেনেছেন, এর মানে হলো প্রত্যেক ব্যক্তির হার্ট স্বতন্ত্র ও স্বাধীন চিন্তা-চেতনা ও মানসিকতার অধিকারী। এখন তো হার্টের সমস্যা হলে হার্ট প্রতিস্থাপন করা যায়। মনে করুন, একজন নাস্তিক ব্যক্তির হার্ট প্রতিস্থাপন করা হলো একজন আস্তিক রোগীর দেহে। তাহলে কি সেই আস্তিক ব্যক্তি হার্ট প্রতিস্থাপনের পর নাস্তিক হয়ে যাবেন?” প্রথমে দেখুন, ভাইয়ার প্রশ্নটি থেকে দুটি শব্দ তুলে নিলাম। ১ – “ব্যক্তি”, ২ – “ব্যক্তির হার্ট”। এখানে স্পষ্ট যে ব্যক্তি ও ব্যক্তির হার্টের মাঝে পার্থক্য আছে। একজন মানুষ জীবনে যা কিছু করে, তার সমষ্টি হলো ঐ ব্যক্তি। অর্থাৎ, ব্যক্তিত্বের সমষ্টি হলো একজন ব্যক্তি। অন্যদিকে, হার্ট মানুষকে কাজ করার জন্যে বা ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার জন্যে চিন্তা ও শক্তি যোগায়।

পড়, তোমার মনের কিতাব!

লোকে বলে, মানুষের মন বুঝা সবচেয়ে কঠিন। আসলেই কঠিন। অন্যের মন বুঝা তো দূরে থাক, নিজের মন বুঝাই কষ্টকর। যে নিজের মনকে নিজে বুঝতে পারে, পৃথিবীতে সেই সবচেয়ে সুখী। নিজের মন নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসার নাম-ই শান্তি। এর অপর নাম সালাম, বা ইসলাম। যে নিজের মনকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসতে পারে, কিংবা, যে নিজের মনকে নিজেই বন্ধী করতে পারে, অথবা, যে নিজের কাছে নিজের মনকে সমর্পণ করতে পারে, সে জান্নাতি সুখ অনুভব করে। নিজের মনকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসার সর্বোত্তম ও সহজ দিকনির্দেশনা প্রদান করে যে গ্রন্থটি, তার নাম আল কোর’আন। আল কোর’আনের প্রথম শব্দ পড়। অর্থাৎ, রবের নামে তোমার মনকে পড়। সুখ, দুঃখ, বা রাগের সময় মনকে শান্ত বা নিয়ন্ত্রণ রাখার সবচেয়ে কার্যকারী কৌশল শেখায় আল কোর’আন। শান্ত মন-ই কেবল জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। অশান্ত মনের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণা। নিজেই নিজের মনকে জানা, বোঝা ও নিয়ন্ত্রণ করা পৃথিবীতে অনেক কষ্টকর হলেও আখিরাতে বিনাকষ্টে সবাই নিজের মনকে নিজেই দেখতে পাবে। কারণ, মৃত্যুর পরে সবার চোখের সীমাবদ্ধতা দূর হয়ে যায়। তাই সবাই তাদের নিজেদেরকে খুব ভালোভাবে দেখতে পারে। পৃথিবীর অশান্ত মনগুলো আখিরাতে নিজেদের বিশ্র...