সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

শিশু লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দার্শনিক জন লকের তত্ত্ব

দার্শনিক জন লকের (১৬৩২ - ১৭০৪) যাবতীয় তত্ত্ব বেড়ে উঠেছে এই ধারণার উপরে - "মানুষ জন্মের সময়ে কোনো জ্ঞান নিয়ে পৃথিবীতে আসে না। জন্মের পর বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে আস্তে আস্তে জ্ঞানী হতে শুরু করে।" এই ধারণাটি প্রথম মুসলিম দার্শনিক ইবনে তোফায়েল (১১০৫ - ১১৮৫) তাঁর 'হাঈ ইবনে ইয়াকজান' উপন্যাসে খুব ভালোভাবে চিত্রায়িত করে গিয়েছিলেন। তারও আগে, কোর'আনে এ বিষটি নিয়ে স্পষ্ট অনেকগুলো আয়াত এসেছে। আল্লাহ তায়ালা বলছেন - وَاللَّهُ أَخْرَجَكُم مِّن بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ ۙ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ "আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে যখন বের করেছেন, তখন তোমরা কিছুই জানতে না। এরপর, তিনি তোমাদেরকে শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও মস্তিষ্ক দিয়েছেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।" [সূরা ১৬/নাহল - ৭৮] দার্শনিক জন লকের চিন্তায় প্রভাবিত হয়ে বাঙালি সেক্যুলার সমাজ যতই রাষ্ট্র থেকে ইসলাম ধর্মকে আলাদা করতে চান না কেনো, তারা স্বয়ং জন লকের চিন্তাকেই ইসলাম-মুক্ত করতে পারবেন না।

মাতৃগর্ভে কি আছে তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জানা সম্ভব?

সূরা লোকমানের শেষ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন – “মাতৃগর্ভে কি আছে তা আল্লাহ জানেন”। কিন্তু আধুনিক যুগে আলট্রাসাউন্ড করেই আমরা জেনে নিতে পারি যে, মায়ের গর্ভের শিশুটি ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে। আল্লাহ যা জানেন, তা তো আমরা নিজেরাই জেনে যেতে পারি। এখানে আল্লাহর বিশেষত্ব আর কি রইলো? একজন ভাইয়া ইনবক্সে এমন একটি প্রশ্ন করেছেন। প্রশ্নের উত্তরে যাবার আগেই সূরা লোকমানের শেষ আয়াতটা দেখে নেই। আল্লাহ তায়ালা বলছেন – إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ ۖ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا ۖ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ “কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহ নিকট রয়েছে। তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন। তিনি জানেন মাতৃগর্ভে কি আছে। কেউ জানে না আগামীকাল সে কি উপার্জন করবে। কেউ জানে না কোন স্থানে তার মৃত্যু হবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত।” [সূরা ৩১ / লোকমান - ৩৪] ------------- ব্যাখ্যা – ১ ------------- এ আয়াতে পাঁচটি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। সবগুলো বিষয়ে আল্লাহর জানা আছে, কিন্তু সবগুলো জানা একই ধরণের নয়। ...

নাস্তিকতা একটি অ-প্রাকৃতিক আচরণের নাম

নাস্তিকতা কি স্বাভাবিক কোনো কিছু? মানব শিশু জন্ম গ্রহণ করার আগেই আল্লাহ তায়ালা তার মধ্যে কয়েকটি বিষয় ডিফল্ট সেটিং করে দেন; শিশুকে তা অন্য কারো কাছ থেকে শিখতে হয় না। যেমন, কান্না। শিশু জন্ম গ্রহণ করর পরেই কাঁদতে পারে, এটা শিশুকে অন্য কারো কাজ থেকে শিখতে হয় না। তেমনি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করাটাও প্রত্যেক শিশুর ডিফল্ট সেটিং করা থাকে। পরিবার ও পরিবেশ থেকে শিশুকে চাপ না দিলে সে মনের অজান্তেই এক আল্লাহকে বিশ্বাস করতে শুরু করে। শিশুদের সাইকোলজি ও বিশ্বাস নিয়ে জাস্টিন ব্যারেট [Justin Barrett] একটি গবেষণামূলক বই লিখেছেন। নাম – Born Believers: The Science of Children's Religious Belief এখানে তিনি অনেকগুলো জরিপ উপস্থাপন করেছেন। যেমন, কোনো শিশুদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয়, “এই পাহাড়টি কি নিজে নিজে তৈরি হয়েছে, না এটাকে কেউ বানিয়েছে?” তখন শিশুরা উত্তর দেয়, “পাহাড়টা কেউ একজন বানিয়েছে”।