সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

দর্শন লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সময়ের আপেক্ষিকতা সম্পর্কে কোর'আনের কিছু আয়াত

[সূরা ২৩/মুমিনুন -১১২-১১৪ ] قَالَ كَمْ لَبِثْتُمْ فِي الْأَرْضِ عَدَدَ سِنِينَ আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা পৃথিবীতে কতদিন অবস্থান করলে বছরের গণনায়? قَالُوا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ فَاسْأَلِ الْعَادِّينَ তারা বলবে, আমরা একদিন অথবা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি। অতএব আপনি গণনাকারীদেরকে জিজ্ঞেস করুন। قَالَ إِن لَّبِثْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا ۖ لَّوْ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা তাতে অল্পদিনই অবস্থান করেছ, যদি তোমরা জানতে? [সূরা ৭০/মা’আরিজ – ৪, ৫ ] تَعْرُجُ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ إِلَيْهِ فِى يَوْمٍۢ كَانَ مِقْدَارُهُۥ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍۢ . فَٱصْبِرْ صَبْرًۭا جَمِيلًا “ফেরেশতাগণ এবং রূহ আল্লাহ তা’আলার দিকে ঊর্ধ্বগামী হয় এমন একদিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর। সুতরাং, তুমি ধৈর্য ধারণ কর, পরম ধৈর্য।” [সূরা ২২/হাজ্জ - ৪৭]

এরদোয়ানের রাষ্ট্র দর্শন

আদালতের সংজ্ঞা বিচারপতিদের এক বৈঠকে এরদোয়ান বলেন – "আদালত হলো রাষ্ট্রের ছাদ। আদালতের কাজ সম্পর্কে পৃথিবীতে অনেকে দার্শনিক ও রাজনীতিবিদ কথা বলেছেন। তবে সবচেয়ে মূল্যবান কথা বলেছেন মাওলানা জালাল উদ্দিন রূমি"। মাওলানা জালাল উদ্দিন রূমি বলেছেন – “জুতাকে পায়ের নিচে রাখা, আর টুপিকে মাথার উপর রাখা-ই আদালতের কাজ। যখন টুপিকে পায়ের নিচে রাখা হয়, এবং জুতাকে মাথার উপর রাখা হয়, তখন আদালত ভেঙ্গে পড়ে। তিনি আরো বলেন, নায় বিচার হলো গাছে পানি দেয়া, আর, জুলুম হলো আগাছায় পানি দেয়া।” এরদোয়ান বলেন – "আদালতের কাজ হলো, যে যা প্রাপ্য, তাকে সেটা বুঝিয়ে দেয়া। আর, জুলুম হলো, যে যা প্রাপ্য, তাকে সেটা না দেওয়া। দেশে যখন আদালত প্রতিষ্ঠা থাকে, তখন দেশে শান্তি থাকে। কিন্তু যখন আদালত ভেঙ্গে পড়ে, তখন দেশে অশান্তি শুরু হয়"। ২০১৮ এর নির্বাচনে এরদোয়ান দুটি অর্থনৈতিক ইশতিহার ১) সুদকে শূন্যের কাছাকাছি নিয়ে আসা। এরদোয়ানের মতে, সূদের পরিমাণ যতো বাড়ে, দ্রব্যমূল্যের দামও তত বাড়ে; এবং সূদের পরিমাণ যতো কমে দ্রব্যমূল্যের দামও তত কমে। এরদোয়ান যখন ক্ষমতায় আসেন তখন শতকরা সুদ ছিলো ৬৩ টাকা। কিন্তু ২০১৩ সালে সুদের পরিম...

পহেলা বৈশাখ প্রসঙ্গে ড আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর

পহেলা বৈশাখ নিয়ে আমি যতগুলো আর্টিকেল পড়েছি ও বক্তব্য শুনেছি, সবচেয়ে মূল্যবান ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা করেছেন উস্তাদ আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর। তাঁর মতো বুদ্ধিজীবী বাংলাদেশে এখন নেই বললেই চলে। আসলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সঙ্কট হলো জ্ঞানী লোকের সঙ্কট। যাই হোক, পহেলা বৈশাখ নিয়ে উস্তাদ আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর খুবই একাডেমিক কিছু কথা বলেছেন এ ভিডিওতে। সেখান থেকে কয়েকটা পয়েন্ট তুলে দিচ্ছি। ১) পহেলা বৈশাখ একটি অবৈ জ্ঞানিক, কুসংস্কারপূর্ণ, অযৌক্তিক, অমানবিক ও জমিদারদের খাজনা আদায়ের উৎসব। ২) পশ্চিম বঙ্গের পহেলা বৈশাখের সাথে বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখের অনেক পার্থক্য রয়েছে। পশ্চিম বঙ্গের পহেলা বৈশাখ হলো একটি সামাজিক উৎসব, কিন্তু বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখ একটি রাজনৈতিক উৎসব। ৩) বাংলাদেশের সেক্যুলারগণ পহেলা বৈশাখকে মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয় দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে। এবং সমাজ থেকে ইসলামী মূল্যবোধ উঠে যাচ্ছে। ৪) পহেলা বৈশাখ হলো একটি পুঁজিবাদী উৎসব। ইসলামী উৎসবের সাথে পহেলা বৈশাখের পার্থক্য রয়েছে। ইসলামী উৎসবের উদ্দেশ্য হলো ত্যাগ, আর পুঁজিবাদী পহেলা বৈশাখের উদ্দেশ্য হলো ভোগ। ইসলামী উৎসবে ধনীরা ...

বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের সঙ্কট কি? (নাকিব আল আত্তাস এর সাক্ষাতকার)

শায়েখ হামজা ইউসুফ : প্রথমেই বলে নিচ্ছি যে, আমি আপনার চিন্তা দ্বারা অনেক উপকৃত হয়েছি। আপনার যতগুলো বই প্রকাশিত হয়েছে, সবগুলো বই আমি পড়েছি। আপনার কাছে আমার প্রশ্ন হলো, বর্তমান মুসলিম বিশ্বের মৌলিক সংকট কি? সাইয়েদ নাকিব আল আত্তাস : আমি আমার বইগুলোতে বলেছি, বর্তমান মুসলিম বিশ্বের সঙ্কট হলো আদবের সঙ্কট। এখানে আমি "আদব" শব্দটিকে ক্লাসিক্যাল অর্থে ব্যবহার করছি। আদব হলো প্রজ্ঞার প্রতিফলন। কারণ, আদব আসে নবীদের জ্ঞান থেকে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনি আদব শিখতে পারবেন না। এমনকি, জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেও আদব অর্জন করা যায় না। এ কারণে আপনি দেখবেন, কিছু মানুষের জ্ঞান থাকলেও তাদের আদব নেই। আমার কাছে আদবের সংজ্ঞা হলো এমন – 'ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যে কাজ করাকে আদব বলে'। এখানে 'ন্যায়' বলতে আমি বুঝাচ্ছি সকল ভালো গুণাবলীর সমষ্টিকে। ন্যায় হলো সকল ভালো গুণাবলীর সমষ্টি, তাই এটি সকল ভালো গুণাবলীর শীর্ষে অবস্থান করে। এ কথাটা কোর'আনেও বলা হয়েছে। আল্লাহ বলছেন - "নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা আমানতের হকদারকে তাদের আমানাত ফিরিয়ে দাও। আর তোমরা মানুষের মাঝে যখন বিচার-মীম...

আমার সফলতার মূলমন্ত্র মৃত্যুকে স্মরণ

“আজকে যদি আমার জীবনের শেষ দিন হয়, তাহলে আমি এখন যে কাজটি করছি, তা কি করতাম?” – এটি সফলতার একটি মন্ত্র। পৃথিবীর সফল মানুষদের একজন হলেন স্টিভ জবস। তিনি ছিলেন বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'অ্যাপল' এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। জীবনে তিনি এত বড় সফলতা অর্জন করার পিছনে যে প্রশ্নটি ছিলো, তা হলো – "আজ যদি আমার জীবনের শেষ দিন হতো, তাহলে আমি এখন যা করছি, তা কি করতেম?" স্টিভ জবস তাঁর জীবনে সফলতার কারণ নির্ণয় করতে গিয়ে বলেন – “যখন আমার বয়স ১৭ বছর ছিলো, তখন আমি একটা প্রবাদ পড়েছিলাম – "তুমি যদি প্রতিদিন এমন ভেবে জীবন-যাপন করতে পারো যে, আজকে তোমার জীবনের শেষ দিন; তাহলে একদিন তুমি নিশ্চয় সফল হবে”। এ প্রবাদটা আমাকে খুবই প্রভাবিত করেছিলো। এটা পড়ার পর থেকে গত ৩৩ বছর প্রতিদিন সকালে আমি আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াতাম, এবং নিজেকে নিজে প্রশ্ন করতাম, “আজকে যদি আমার জীবনের শেষ দিন হয়, তাহলে আজকে আমি যা করতে যাচ্ছি, তা কি করতাম?” টানা কয়েকদিন এ প্রশ্নটির উত্তর যদি “না” হতো, তাহলে আমি ভাবতাম, আমার কিছু একটা পরিবর্তন করতে হবে। জীবনে আমাকে অনেক সাহায্য করেছে যে কথাটি, তা হলো – “আমি খু...

‘যুক্তি’ ও ‘বুদ্ধি’ কাকে বলে?

‘যুক্তি’ শব্দটি ‘যুক্ত’ শব্দ থেকে এসেছে। কোনো একটি ঘটনাকে অন্য একটি ঘটনার সাথে যুক্ত করাকে বলে ‘যুক্তি’। যেমন, (ছেলেটি সারাদিন টিভি দেখতো,) ‘তাই’ (সে এখন চোখে কম দেখে।) এ বাক্যে, ‘টিভি দেখা’ ঘটনাটির সাথে ‘চোখে কম দেখা’ ঘটনাটিকে যুক্ত করে নতুন যে একটি বাক্য তৈরি করা হলো, এটাকেই যুক্তি বলে। একজন মানুষ পৃথিবীর যতবেশী ঘটনাকে পরস্পর যুক্ত করতে পারেন, তিনি ততবড় যুক্তিবাদী। ধর্ম মানুষকে সবচেয়ে বেশী যুক্তিবাদী হতে সাহায্য করে। কারণ, ধর্ম বলে, পৃথিবী ও পৃথিবীর বাইরের সকল দৃশ্য ও অদৃশ্য বস্তু এক আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন। এবং পৃথিবী ও পৃথিবীর বাইরের সকল ঘটনা এক আল্লাহ তায়ালার হুকুমেই ঘটে থাকে।। অর্থাৎ, পৃথিবী ও পৃথিবীর বাইরের সকল বস্তু ও ঘটনাকে এক আল্লাহর সাথে যুক্ত করার নামই ধর্ম। যিনি সবকিছুকে এক আল্লাহর সাথে যুক্ত করতে পারেন, তিনি সবচেয়ে বড় যুক্তিবাদী বা ধার্মিক হতে পারেন। নাস্তিকগণ বিজ্ঞানের সাথে ধর্মকে যুক্ত করতে পারেন না, পৃথিবী সৃষ্টির আগের সময়ের সাথে পৃথিবী ধ্বংসের পরের সময়কে যুক্ত করতে পারেন না, ধনী ব্যক্তির সাথে গরিব ব্যক্তিকে যুক্ত করতে পারেন না। পৃথিবীর এমন অনেক কিছুর পিছনেই তারা ক...

ওহী ও জ্ঞানের সম্পর্ক

মুহাম্মদ (স)-এর আগে পৃথিবীতে যখনি কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছিলো, তখন আল্লাহ তায়ালা সেখানে একজন নবী বা রাসূল পাঠিয়ে সমস্যার সমাধান করে দিয়েছিলেন। কিন্তু, মুহাম্মদ (স) যখন বললেন যে, “আমি শেষ নবী, আমার পরে আর কোনো নবী নেই”, তখন নতুন একটি প্রশ্ন জাগ্রত হলো। মুহাম্মদ (স) মারা যাবার পরে পৃথিবীর সমস্যাগুলো কিভাবে সমাধান করা হবে? এ প্রশ্নটির উত্তর পাওয়া যায় রাসূল (স)-এর অন্য একটি হাদিসে। তিনি বলেন – إِنَّ العُلَمَاءَ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ، إِنَّ الأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا إِنَّمَا وَرَّثُوا العِلْمَ، فَمَنْ أَخَذَ بِهِ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ “নিশ্চয় জ্ঞানীগণ হলেন নবীগণের উত্তরসূরি। নবীরা টাকা-পয়সা কিছু রেখে যান না, তারা রেখে যান জ্ঞান। যে জ্ঞান অর্জন করে, সে সৌভাগ্য অর্জন করে।” [সুনানে আবু দাউদ – ৩৬৪১, এবং সুনানে তিরমিজি – ২৬৮২, মাকতাবায়ে শামেলা] এ হাদিসটি থেকে আমরা কিছু অনুসিদ্ধান্তে আসতে পারি –

ড. সাইয়্যেদ হোসাইন নসের

সত্য ও সুন্দরের ব্রত নিয়ে জ্ঞানের পথে ছুটে চলা এক দুরন্ত পথিকের নাম সাইয়্যেদ হোসাইন নাসের। তিনি একাধারে ইসলামী চিন্তাবিদ, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, কবি, সাহিত্যিক, ভাষাবিদ, শিক্ষাবিদ এবং অসংখ্য ইসলামী বইয়ের লেখক। তাঁর গভীর ও মৌলিক চিন্তা-ভাবনা দ্বারা কেবল মুসলিম দুনিয়া নয়, পূর্ব-পশ্চিমব্যাপী প্রচুর অমুসলিম চিন্তাবিদও প্রভাবিত হয়েছেন। ধর্ম, দর্শন, বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য, সভ্যতা, স্থাপত্য, কবিতা, আধুনিকতা, পরিবেশ, প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিকতা নিয়ে তার চিন্তা-ভাবনা বিশ্বব্যাপী জ্ঞান-তাত্ত্বিকদের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করে চলেছে। একবিংশ শতাব্দীর তরুণ চিন্তাবিদদের একজন শিক্ষক তিনি, এটাই তাঁর বড় পরিচয়। ১৯৩৩ সালে ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি সম্ভ্রান্ত সূফী পরিবারে হোসাইন নাসেরের জন্ম। পিতা সাইয়্যেদ ভ্যালিআল্লাহ ছিলেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং ইরানের আধুনিক শিক্ষার প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় তেহরান শহরের একটি ইসলামী স্কুলে। এখানে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি চলে যান আমেরিকায়; সেখানে একটি স্কুলে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা করেন। উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র থাক...

ইসলামী শরিয়াহ ও রাজনীতি - শায়েখ হামজা ইউসুফ

"আধুনিক যুগের মুসলিমরা মনে করেন যে, ইসলাম হলো একটি রাজনৈতিক দর্শন। আসলে এটি জায়োনিস্টদের একটি দাবী। জায়োনিস্টরা ইসরাইল রাষ্ট্র গঠন করার জন্যে ইহুদি ধর্মকে একটি রাজনৈতিক দর্শনে পরিবর্তন করে ফেলে। আধুনিক মুসলিমরা ইহুদি জায়োনিস্টদের অনুসরণ করছে। জায়োনিস্টরা যেমন ইহুদি রাষ্ট্র কায়েম করতে চেয়েছিলো, আধুনিক মুসলিমরাও তেমনি ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করতে চায়। অথচ, রাসূল (স) কেয়ামতের একটি আলামত হিসাবে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে, "মুসলিমরা তখন বনি ইসরাইল অনুসরণ করবে।" অনেকের ধারণা এমন যে, ইসলামী রাষ্ট্রে মানুষকে জোর করে ভালো মুসলিম বানানো যায়। আসলে এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ইসলামে কখনো এমন কোনো ধারণার অস্তিত্ব ছিলো না, এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। যদি কেউ মনে করে যে, রাষ্ট্র ও সরকারের মাধ্যমে ইসলামী শরিয়াহকে বাস্তবায়ন করতে হবে, তাহলে তিনি ভুল চিন্তা করছেন। কারণ আল্লাহ তায়ালা কোর'আনে বলছেন – وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَآمَنَ مَن فِي الْأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا ۚ أَفَأَنتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّىٰ يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ তোমার প্রভু ইচ্ছা করলে পৃথিবীর সকল মানুষ ঈমান গ্রহণ করতো। কিন্তু তুমি মানুষকে ...

এনলাইটেনমেন্ট বা বুদ্ধির বিকাশে 'হাঈ ইবনে ইয়াকজান'

ইউরোপের এনলাইটেনমেন্ট বা বুদ্ধির বিকাশ ঘটানোর জন্যে মুসলিমদের প্রচুর অবদান রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ আমরা মুসলিম দার্শনিক ইবনে তোফায়েল ও তাঁর ছাত্র ইবনে রুশদের কথা বলতে পারি। বুদ্ধির সাহায্যে কিভাবে স্রষ্টার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়, তা নিয়ে ইবনে তোফায়েল একটি উপন্যাস লিখেছিলেন, যার নাম হলো হাঈ ইবনে ইয়াকজান। এই উপন্যাসে তিনি দেখিয়েছেন যে, কোনো মানুষ যদি বনে-জঙ্গলে বাস করে, এবং তার কাছে যদি কোর’আন-হাদিস বা কোনো ধর্মের বাণী না পৌঁছায়, তবুও সে তার যুক্তি-বুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহকে চিনতে পারবে। ইবনে তোফায়েলের এ দার্শনিক উপন্যাসটি ইউরোপে এতো বেশী জনপ্রিয়তা লাভ করে যে, এ গ্রন্থকে তাঁরা একটি তত্ত্ব আকারে হাজির করেছেন। তত্ত্বটির নাম হলো - ‘ফিলোসফাস অটোডিডাকটাস’। ইউরোপের বিখ্যাত সব দার্শনিক এবং বিজ্ঞানীদের চিন্তা ভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে হাঈ ইবনে ইয়াকজান। যেমন, থমাস হবস (১৫৮৮-১৬৭৯), জন ওয়ালিস (১৬১৬-১৭০৩), জন লক (১৬৩২-১৭০৪), আইজ্যাক নিউটন (১৬৪৩-১৭২৭), গটফ্রিড লাইবনিজ (১৬৪৬-১৭১৬), জর্জ বার্কলি (১৬৮৫-১৭৫৩), ডেভিড হিউম (১৭১১-১৭৭৬), ইমানুয়েল কান্ট (১৭২৪-১৮০৪), শোপেনহাওয়ার (১৭৮৮-১৮৬০) সহ আরো অ...

দার্শনিক জন লকের তত্ত্ব

দার্শনিক জন লকের (১৬৩২ - ১৭০৪) যাবতীয় তত্ত্ব বেড়ে উঠেছে এই ধারণার উপরে - "মানুষ জন্মের সময়ে কোনো জ্ঞান নিয়ে পৃথিবীতে আসে না। জন্মের পর বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে আস্তে আস্তে জ্ঞানী হতে শুরু করে।" এই ধারণাটি প্রথম মুসলিম দার্শনিক ইবনে তোফায়েল (১১০৫ - ১১৮৫) তাঁর 'হাঈ ইবনে ইয়াকজান' উপন্যাসে খুব ভালোভাবে চিত্রায়িত করে গিয়েছিলেন। তারও আগে, কোর'আনে এ বিষটি নিয়ে স্পষ্ট অনেকগুলো আয়াত এসেছে। আল্লাহ তায়ালা বলছেন - وَاللَّهُ أَخْرَجَكُم مِّن بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ ۙ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ "আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে যখন বের করেছেন, তখন তোমরা কিছুই জানতে না। এরপর, তিনি তোমাদেরকে শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও মস্তিষ্ক দিয়েছেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।" [সূরা ১৬/নাহল - ৭৮] দার্শনিক জন লকের চিন্তায় প্রভাবিত হয়ে বাঙালি সেক্যুলার সমাজ যতই রাষ্ট্র থেকে ইসলাম ধর্মকে আলাদা করতে চান না কেনো, তারা স্বয়ং জন লকের চিন্তাকেই ইসলাম-মুক্ত করতে পারবেন না।

ইবলিশ না থাকলে কি মানুষ খারাপ কাজ করতো?

ইবলিশের যদি সৃষ্টি না হতো, তাহলে কি মানুষ খারাপ কাজ করতো? উত্তর – হাঁ। মানুষ কেবল শয়তানের কারণেই শয়তানি করে না, বরং নিজের নফসের কারণেও খারাপ কাজ করে। কোর’আন থেকে কয়েকটি উদাহরণ দেখুন। ১। পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম মানুষ হত্যার যে ঘটনাটি ঘটেছিলো, অর্থাৎ, কাবিল যে হাবিলকে হত্যা করেছিলো, তা ইবলিশের কারণে করেনি। বরং নিজের নফসের কারণেই সে ভ্রাতৃহত্যায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলো। কোর’আনে এসেছে – فَطَوَّعَتْ لَهُ نَفْسُهُ قَتْلَ أَخِيهِ فَقَتَلَهُ فَأَصْبَحَ مِنَ الْخَاسِرِينَ “অতঃপর তার নফস তাকে ভ্রাতৃহত্যায় উদ্বুদ্ধ করল। ফলে সে তাকে হত্যা করল। তাই সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।”[সূরা ৫/মায়িদা - ৩০] অর্থাৎ, কাবিল ইবলিশের কারণে নয়, বরং তার নিজের নফসের কারণেই হাবালকে হত্যা করেছিলো।

রাজনীতির সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক - শায়খ ড. জাসের আওদা

[‘ইসলাম ও রাজনীতি’ প্রসঙ্গে কেউ মনে করেন, প্রচলিত ব্যবস্থাকে উপড়ে ফেলে ‘আদর্শ ইসলামী ব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠা করাই হলো একমাত্র করণীয়। আবার কেউ মনে করেন, রাজনীতির মধ্যে ইসলামকে টেনে আনা মোটেও ঠিক নয়। কিন্তু স্বয়ং ইসলাম ব্যাপারটিকে কীভাবে দেখে, তা নিয়ে সমাজে স্বচ্ছ ধারণার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। গত ২০ মে ২০১৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ADAMS সেন্টারের জুমার খুতবায় শায়খ ড. জাসের আওদা রাজনীতির সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক নিয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। সিএসসিএস -এর পাঠকদের জন্য বক্তব্যটি অনুবাদ করেছেন জোবায়ের আল মাহমুদ।]   গণসম্পৃক্ততা ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃবৃন্দ, ইমাম ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্যে আমরা একটি নির্দেশনা তৈরি করেছি। আজকের বক্তব্যটি সেই প্রশিক্ষণেরই অংশ। বিশেষত, আমাদের নেতৃবৃন্দ, ইমাম ও শিক্ষকদের মধ্যে যারা এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন এ বক্তব্য তাদের জন্যে। একটি অনুষ্ঠানে আজকের  এই বক্তব্যের ঘোষণাটি দেয়ার পর বেশ কয়েকজন ভাইবোনের কাছ থেকে আমি কিছু প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। একজন বলেছেন, ‘ইসলাম ও রাজনীতি’ প্রসঙ্গটি নিয়ে মসজিদে আলোচনা করা উচিত নয়। এই ভাইয়ের য...

বিজ্ঞানের ভিত্তি কল্পনা

বিজ্ঞান যে শাস্ত্রের মাধ্যমে গড়ে উঠে তার নাম গণিত। গণিত ছাড়া বিজ্ঞান অকল্পনীয়। কিন্তু, গণিতের কোনো অস্তিত্ব বাস্তব জগতে নেই, গণিত গড়ে উঠে কিছু কাল্পনিক ধারনার উপর ভিত্তি করে। যেমন ধরুন, আমি যদি বলি "কলা", তাহলে বাস্তব জগতে আপনি একটি কলাকে ধরতে পারবেন, এবং ইচ্ছে করলে খেতেও পারবেন। কিন্তু, আমি যদি বলি "৫', তাহলে "পাঁচ" নামের কোনো কিছুকে আপনি বাস্তব জগতে খুঁজে পাবেন না, এবং হাত দিয়ে ধরতেও পারবেন না। "৫" নামের একটি সংখ্যাকে আমরা উচ্চারণ করতে পারি, এবং কলম দিয়ে কাগজে লিখতে পারি, কিন্তু  বাস্তব জগতে "৫" নামের কোনো কিছুকে আমরা খুঁজে পাই না। অথচ, "৫" ছাড়া গণিত অচল, এবং গণিত ছাড়া বিজ্ঞান অচল। অর্থাৎ, বিজ্ঞান গড়ে উঠে কিছু কাল্পনিক ধারনার উপর ভিত্তি করে, যা বাস্তব জগতে পাওয়া যায় না। যারা বলেন, আমরা আল্লাহকে না দেখে বিশ্বাস করি না, তারা কিন্তু ঠিকই গণিতের সংখ্যাগুলোকে বাস্তব জগতে না দেখেই বিশ্বাস করে। তাদেরকে আপনি যদি বলেন, "দেখি আমাকে বাস্তব জগতে গণিতের সংখ্যাগুলো দেখাও তো", তখন সে আপনাকে কিছুই দেখাতে পারবে না।

মানুষ, প্রাণী ও বস্তুর সাথে ভাষার সম্পর্ক

আমাদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয়, ভাষা মানে কি? তখন আমাদের মনে “অ, আ, ক, খ” এমন বর্ণগুলো ভাসতে থাকে। এ কারণে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি আসলেই চতুর্দিকে বিভিন্ন পোষ্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ডে আমরা বাংলা বর্ণগুলো নিয়মিত দেখতে পাই। এরপর, আমাদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয়, মাতৃভাষা কাকে বলে? তখন ছোটবেলায় মায়ের কাছে আমরা যে ভাষাটি শিখেছি, তা মনে পড়ে। আসলে ভাষা মানে চোখে দেখা কয়েকটি অক্ষর, অথবা, কানে শুনা কয়েকটি শব্দ নয়। ভাষা মানে হচ্ছে ভাবের বিনিময়। আমাদের মনে যখন কোনো একটি ভাবের উদয় হয়, তখন সে ভাবটি অন্যের নিকট উপস্থাপন করাকেই ভাষা বলে। মানুষের জন্যে ভাব প্রকাশ করার সবচেয়ে সহজ ও প্রাচীন মাধ্যম হলো মুখ দিয়ে শব্দ উচ্চারণ করা, এবং কান দিয়ে তা শুনা। কিন্তু, প্রাচীন কালে কথা বলার মাধ্যমে যে ভাব প্রকাশ করা হতো, তা খুব অস্থায়ী ও সীমিত রূপ ধারণ করতো। কারণ, মুখে কোনো শব্দ উচ্চারণ করার সাথে সাথে তা বাতাসে মিশে যেতো। তখন মুখের আশেপাশে থাকতো, তারাই কেবল মুখে উচ্চারিত শব্দগুলোর ভাব বুঝতে পারতো।

আল্লাহ যদি দয়ালু হন, তাহলে তিনি মানুষকে বিপদের সম্মুখীন করেন কেন?

দয়া করার অর্থ সবসময় মানুষের ভালো করা, ব্যাপারটা এমন না। কখনো কখনো মানুষকে একটি বড় বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্যে একটি ছোট বিপদের মধ্যে ফেলে দেয়াও এক ধরণের দয়া। যেমন, একজন ডাক্তার দয়ালু হয়ে একজন গর্ভবতী মায়ের পেট কেটে বাচ্চা বের করেন। এ ক্ষেত্রে এই ডাক্তারকে কি আমরা দয়াহীন বলতে পারি? পারি না। কারণ এখানে ডাক্তার একজন গর্ভবতী মাকে বড় একটি বিপদের থেকে বাঁচানোর জন্যে ছোট একটি বিপদে ফেলে দিয়েছেন। তেমনি, আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে জাহান্নামের অনেক বড় বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্যে মাঝে মধ্যে দুনিয়াতে কিছু ছোট-খাটো কিছু বিপদ দেন। তিনি যে মানুষকে ছোট-খাটো বিপদের সম্মুখীন করেন, এটাও তাঁর একটি দয়া। ফিরাউনকে আল্লাহ তায়ালা জীবনে কোনো অসুখ দেননি, কারণ, তাঁর প্রতি আল্লাহর খুব বেশি দয়া ছিলো না। আমাদেরকে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন বিপদ-আপদ দেন, কেননা, আমাদের প্রতি আল্লাহর দয়া বেশি।

যার কাছে ধর্ম পৌঁছায়নি, তিনি কি জাহান্নামে যাবেন?

কেউ যদি অ্যামাজন জঙ্গলে বাস করে, অথবা, কোনো মানুষের নিকট যদি পৃথিবীর কোনো ধর্ম বা শিক্ষা না পৌঁছে, তাহলে সে কি জাহান্নামে যাবে? একজন ভাইয়া ইনবক্সে আমাকে এ প্রশ্নটি করেছেন। এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার আগে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে একটু নজর দেই। বাংলাদেশে যখন S.S.C. পরীক্ষা শুরু হয়, তখন সারা দেশের সকল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা একই দিনে এবং একই সময়ে শুরু হয়। ঢাকা, কুমিল্লা, বা যে কোনো বোর্ডের প্রশ্নপত্রগুলো সব একই রকম হয়। অর্থাৎ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ন করার জন্যে একটিমাত্র প্রশ্নপত্র দেয়া হয়। কিন্তু, আল্লাহ তায়ালা মানুষদের থেকে এভাবে পরীক্ষা নেন না। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের যোগ্যতা ও সমর্থ অনুযায়ী আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মানুষের জন্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন প্রস্তুত করেন। অর্থাৎ, বাংলাদেশী একজন মানুষকে আল্লাহ তায়ালা যেভাবে প্রশ্ন করবেন, অ্যামাজন জঙ্গলে বসবাসকারী একজন মানুষকে আল্লাহ তায়ালা ঠিক সেভাবে প্রশ্ন করবেন না। কোর’আনে আল্লাহ তায়ালা বলেন – لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا “আল্লাহ কোনো মানুষকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কাজের ভার দেন না”। [সূরা ২/ বাকারা ...

ইবনে খালদুন সম্পর্কে রোনাল্ড রেগান

কার্ল মার্ক্সকে পড়ার আগে আমাদেরকে ইবনে খালদুন পড়া উচিত। অনেকে মনে করেন, “ইবনে খালদুনের চিন্তাকে আরো সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন কার্ল মার্ক্স। সুতরাং, কার্ল মার্ক্সকে পড়লে এখন আর ইবনে খালদুনকে পড়ার প্রয়োজন হয় না।” কথাটি একেবারেই সত্য নয়। পশ্চিমা বিশ্বে যত বড় বড় অর্থনীতিবিদের জন্মই হোক না কেনো, এখনো সারাবিশ্বে ইবনে খালদুনের প্রয়োজনীয়তা, জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, অ্যামেরিকার ৪০তম প্রেসিডেন্ট Ronald Reagan এর একটি বক্তব্য আমি এখানে বাংলা সাব-টাইটেল করে দিয়েছি। রোনাল্ড রেগান এর সময়ে অ্যামেরিকা সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সচ্ছলতা লাভ করে। এর কারণ হিসাবে রেগান বলেন, তিনি ইবনে খালদুনের একটি তত্ত্ব মেনে চলতেন। ইবনে খালদুন বলেন –

আবেগ ও আকল এর ব্যবহার

আবেগ, প্রেম, ভালোবাসা, রাগ, ক্ষোভ, দয়া, মায়া, ক্ষুধা এসব আবেগ সকল প্রাণীর-ই রয়েছে। মানুষের অতিরিক্ত যে জিনিসটা আছে, তা হলো আকল বা বুদ্ধি। আবেগ ও আকল, দুটি নিয়েই মানুষের পথ চলতে হয়। শুধু আবেগ কিংবা শুধু আকল দিয়ে পথ চলা যায় না। উদাহরণ স্বরূপ, মানুষকে একটি সাইকেলের সাথে তুলনা করি। আবেগ হলো সাইকেলের প্যাডেল, আর আকল হলো সাইকেলের ব্রেক। প্যাডেলে চাপ না দিলে যেমন সাইকেল সামনে যায় না, তেমনি মানুষের জীবনে ভালোবাসা, রাগ, ক্ষোভ, দয়া, মায়া এসব আবেগ ছাড়া মানুষের জীবন চলে না। একইভাবে, ব্র েক ছাড়া যেমন সাইকেলের পথ ঠিক রাখা যায় না, সাইকেল এক্সিডেন্ট করে; তেমনি আকল ছাড়া মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য ও চলার পথ সোজা রাখা যায় না। দর্শন ও বিজ্ঞান মানুষের আকল বা বুদ্ধি নিয়ে কথা বলে, আবেগ নিয়ে কথা বলে না। কিন্তু ধর্ম মানুষের আবেগ ও আকল দুটি নিয়েই কথা বলে। ধর্ম মানুষের আবেগ ও আকলের মাঝে সমন্বয় সাধন করে মানুষকে সঠিক পথে চালিত করে।

ইহুদিরা কি বানর হয়ে গিয়েছিলো?

বানর থেকে মানুষের সৃষ্টি হয়েছে, এ কথার পক্ষে বিবর্তনবাদীরা কোর’আনের একটি আয়াত উপস্থাপন করেন – وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدَوْا مِنْكُمْ فِي السَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ “তোমরা তাদেরকে ভালো করেই জানো, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করেছিলো। আমি তাদেরকে বলেছিলাম, তোমরা ঘৃণিত বানর হয়ে যাও।” [সূরা ২/বাকারা - ৬৫] বিবর্তনবাদীদের যুক্তি হলো, কোর’আনের বর্ণনা অনুযায়ী মানুষ থেকে যদি বানর হতে পারে, তাহলে বানর থেকেও মানুষ হতে পারবে না কেন? এ প্রশ্নের উত্তর অনেক আগেই বলে গিয়েছিলেন প্রসিদ্ধ মুফাসসির মুজাহিদ বিন জাবর। তিনি ছিলেন প্রথম মুফাসসির ইবনে আব্বাস (রা) ও আয়েশা (রা) এর ছাত্র। তাঁর মতে – যেসব ইহুদিরা শনিবারে মাছ ধরতো, তারা শারীরিকভাবে বানরের মতো হয়নি, বরং চারিত্রিকভাবে বানরের মতো হয়ে গিয়েছিলো।