সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

আল্লাহ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আল্লাহ যদি দয়ালু হন, তাহলে তিনি মানুষকে বিপদের সম্মুখীন করেন কেন?

দয়া করার অর্থ সবসময় মানুষের ভালো করা, ব্যাপারটা এমন না। কখনো কখনো মানুষকে একটি বড় বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্যে একটি ছোট বিপদের মধ্যে ফেলে দেয়াও এক ধরণের দয়া। যেমন, একজন ডাক্তার দয়ালু হয়ে একজন গর্ভবতী মায়ের পেট কেটে বাচ্চা বের করেন। এ ক্ষেত্রে এই ডাক্তারকে কি আমরা দয়াহীন বলতে পারি? পারি না। কারণ এখানে ডাক্তার একজন গর্ভবতী মাকে বড় একটি বিপদের থেকে বাঁচানোর জন্যে ছোট একটি বিপদে ফেলে দিয়েছেন। তেমনি, আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে জাহান্নামের অনেক বড় বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্যে মাঝে মধ্যে দুনিয়াতে কিছু ছোট-খাটো কিছু বিপদ দেন। তিনি যে মানুষকে ছোট-খাটো বিপদের সম্মুখীন করেন, এটাও তাঁর একটি দয়া। ফিরাউনকে আল্লাহ তায়ালা জীবনে কোনো অসুখ দেননি, কারণ, তাঁর প্রতি আল্লাহর খুব বেশি দয়া ছিলো না। আমাদেরকে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন বিপদ-আপদ দেন, কেননা, আমাদের প্রতি আল্লাহর দয়া বেশি।

"আল্লাহ কি এমন একটি পাথর বানাতে পারবেন, যা তিনি নিজেই তুলতে পারবেন না?"

নাস্তিকরা প্রায়ই এই প্রশ্নটি করেন - "আল্লাহ তায়ালা কি এমন একটি পাথর বানাতে পারবেন, যা তিনি নিজেই তুলতে পারবেন না?" এ প্রশ্নের উত্তরে আপনি যদি "হাঁ" বলেন, তাহলেও বিপদ; আপনি যদি "না" বলেন, তাহলেও বিপদ। তো, একবার এক বাঙালি আস্তিককে এ প্রশ্নটি করার পর, তিনি উত্তরে বললেন: "জ্বি... না..."। তিনি "হাঁ" বা "না" কোনো একটি না বলে বরং দুটাই একসাথে বলে দিলেন। এবং প্রশ্নকারী নাস্তিককে বললেন যে, তোমার প্রশ্নের একটি অংশের উত্তর "হাঁ" এবং অন্য একটি অংশের উত্তর "না"। তাই আমি "জ্বি... না..." বলেছি। তখন আস্তিকটির "যেমন কুকুর, তেমন মুগুর" দেখে নাস্তিকটি আর কথা না বাড়িয়ে চলে গেলেন। আসলে এখানে উত্তরে সমস্যা না, সমস্যা হলো প্রশ্নে। যেমন, কেউ যদি আপনাকে বলে: "তুমি কি আগের মতো তোমার স্ত্রীকে এখনো মারো?" এখানে এ প্রশ্নের উত্তরে আপনি যদি "হাঁ" বলেন, তার মানে আপনি আপনার স্ত্রীকে মারেন। আর, প্রশ্নটির উত্তরে আপনি যদি "না" বলেন, তার মানে, আপনি বর্তমানে আপনার স্ত্রীকে মারেন না, কিন্তু আগে আ...

যার কাছে ধর্ম পৌঁছায়নি, তিনি কি জাহান্নামে যাবেন?

কেউ যদি অ্যামাজন জঙ্গলে বাস করে, অথবা, কোনো মানুষের নিকট যদি পৃথিবীর কোনো ধর্ম বা শিক্ষা না পৌঁছে, তাহলে সে কি জাহান্নামে যাবে? একজন ভাইয়া ইনবক্সে আমাকে এ প্রশ্নটি করেছেন। এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার আগে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে একটু নজর দেই। বাংলাদেশে যখন S.S.C. পরীক্ষা শুরু হয়, তখন সারা দেশের সকল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা একই দিনে এবং একই সময়ে শুরু হয়। ঢাকা, কুমিল্লা, বা যে কোনো বোর্ডের প্রশ্নপত্রগুলো সব একই রকম হয়। অর্থাৎ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ন করার জন্যে একটিমাত্র প্রশ্নপত্র দেয়া হয়। কিন্তু, আল্লাহ তায়ালা মানুষদের থেকে এভাবে পরীক্ষা নেন না। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের যোগ্যতা ও সমর্থ অনুযায়ী আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মানুষের জন্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন প্রস্তুত করেন। অর্থাৎ, বাংলাদেশী একজন মানুষকে আল্লাহ তায়ালা যেভাবে প্রশ্ন করবেন, অ্যামাজন জঙ্গলে বসবাসকারী একজন মানুষকে আল্লাহ তায়ালা ঠিক সেভাবে প্রশ্ন করবেন না। কোর’আনে আল্লাহ তায়ালা বলেন – لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا “আল্লাহ কোনো মানুষকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কাজের ভার দেন না”। [সূরা ২/ বাকারা ...

স্রষ্টা ও ধর্ম নিয়ে বিশ্ববিখ্যাত দুই বিজ্ঞানীর দ্বন্দ্ব

স্টিফেন হকিং এবং মিচিও কাকু দু’জনই সমসাময়িক বিশ্ববিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী। বাংলাদেশে স্টিফেন হকিং-এর নামটি অনেক পরিচিত হলেও বিজ্ঞানের জগতে স্টিফেন হকিং-এর চেয়ে মিচিও কাকু-র অবদান অনেক বেশি। মিচিও কাকু হলেন ‘স্ট্রিং তত্ত্বের’ কো-ফাউন্ডার। এ তত্ত্বটি অতীতের বিগ ব্যাং তত্ত্বকে পিছনে ফেলে বর্তমানে বিজ্ঞানে বিপ্লব নিয়ে এসেছে। তাই বিশ্বের কাছে স্টিফেন হকিং এর চেয়ে মিচিও কাকু’র জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। নিউ ইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার বইয়ের তালিকায় সাধারণত বিজ্ঞানের কোনো বই পাওয়া না গেলেও সেখানে মিচিও কাকু-র বিজ্ঞান বিষয়ক তিনটি বই বেস্টসেলার হয়েছে। অবশ্য, সেই তালিকায় স্টিফেন হকিং-এর একটি বইও নেই। দু’জনেই সমসাময়িক বিশ্ববিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী হলেও স্রষ্টা ও ধর্ম নিয়ে দু’জনের অবস্থান দুই প্রান্তে।   ১ - ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞানের সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের বিতর্ক।   স্টিফেন হকিং তাঁর ‘The Grand Design’ বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে বলেছেন, ‘দর্শন মরে গেছে এবং ধর্ম অকার্যকর হয়ে গেছে, এখন কেবল বিজ্ঞানের যুগ’। তাঁর মতে, সত্য মানেই বিজ্ঞান। ধর্ম ও দর্শনের যাবতীয় সমস্যা বিজ্ঞান দিয়ে সমাধান করা সম্ভব। তাই, ধর্ম ও দর্শন এ...

আল্লাহর গুণবাচক নামের মাঝে "এবং" নেই

"বিসমিল্লাহ হির-রাহমানির রাহিম" – এ বাক্যটির অর্থ করার সময়ে আমরা বলি – “পরম করুণাময় ও পরম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি”। বাংলায় অনুবাদ করার সময়ে “পরম করুণাময় ‘ও’ পরম দয়ালু” দু’টি শব্দের মাঝে একটি [ও]–কে যুক্ত করি আমরা। কিন্তু কোর’আনে আল্লাহর একাধিক নাম একসাথে ব্যবহৃত হলে কখনোই [ও / এবং] যুক্ত হয় না। যেমন ধরুন, আল্লাহ বলছেন – إِنَّكَ أَنتَ ٱلْعَلِيمُ ٱلْحَكِيمُ “নিশ্চয় আপনি জ্ঞানময় ‘ও’ প্রজ্ঞাবান”। [২/৩২] এখানে, ٱلْعَلِيمُ ও ٱلْحَكِيمُ শব্দের মধ্যে আরবি ‘ওয়াও’ বা ‘এবং’ শব্দটি নেই। কিন্তু আমরা অনুবাদের সময়ে ‘ও’/ ‘এবং’ শব্দটিকে ব্যবহার করি। তাহলে এটি কি ভুল অনুবাদ? উত্তর – না। বাংলা ভাষায় আমরা একাধিক বিশেষণ বা গুণবাচক শব্দ ব্যবহার করার সময়ে মাঝখানে [ও] শব্দটি যুক্ত করি। যেমন, আমরা বলি – “ছেলেটি মেধাবী ও চরিত্রবান”। এখানে ‘মেধাবী’ [ও] ‘চরিত্রবান’ দুটি শব্দের মাঝে ‘ও’/’এবং’ শব্দটিকে আমরা স্বাভাবিক ভাবেই যুক্ত করি।

আল্লাহকে অনুভব করার উপায়

আমরা কখন বুঝব যে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সরাসরি দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন? ১। যখন খুবই ব্যস্ততার মাঝেও আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ হয়। ২। যখন পরিবার, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন বা অধীনস্থদেরকে সাহায্য করতে মন চায়। ৩। যখন কোনো ফকির বা ভিক্ষুককে টাকা বা খাবার দিতে ইচ্ছা হয়। ৪। যখন গাছ-পালা, সাগর-নদী, পশু-পাখী অর্থাৎ প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা জাগে। ৫। যখন আল্লাহর দেয়া প্রাকৃতিক সম্পদকে অপচয় ও দূষণ থেকে রক্ষা করার দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়। ৬। যখন কারো জন্যে ভালো কোনো খাবার বা সুন্দর কোনো কিছু তৈরি করতে মন চায়। ৭। যখন প্রতিটি খাদ্য ও পানীয়কে আল্লাহর নিয়ামত মনে হয়। ৮। যখন কোর’আন বা কোনো বই পড়ার সময়ে গভীর ও নতুন কোনো চিন্তা-ভাবনা নিজের মাঝে জাগ্রত হয়। ৯। যখন নিজের গভীর চিন্তা থেকে কোনো কিছু আঁকতে বা লিখতে ইচ্ছা হয়। ১০। যখন নিজে নিজে নতুন কিছু আবিষ্কার করে ফেলি। ১১। যখন শিশু বা দুর্বলদের প্রতি হৃদয় থেকে ভালোবাসা জাগে। ১২। যখন কেউ নিজের সন্তানদেরকে নৈতিকভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। ১৩। যখন নিজের ব্যক্তিগত সবকিছু বন্ধুদের আগে পিতা-মাতার সাথে শেয়ার করতে মন চায়। ১৪। যখন সমাজের বিভিন্ন বাধা ও দাসত্ব প্রথাগুলো বোঝার যোগ্যতা...

'আল্লাহ ১' - এর গাণিতিক অর্থ

কেউ এসে পিথাগোরাসকে কোনো কিছু জিজ্ঞাস করলে, তিনি তা সংখ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করতেন। যেমন, তিনি বলতেন, আল্লাহ হলো ‘এক’, অথবা, ‘এক’ হলো আল্লাহ। পিথাগোরাস যদি রাসূল (স)-এর পরে জন্ম গ্রহণ করতেন, তাহলে সম্ভবত তিনি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”কেও সংখ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করে যেতেন। কিন্তু তবুও, আমরা চাইলে এখন পিথাগোরাসের স্টাইলে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”কে বোঝার চেষ্টা করেতে পারি। _______ “লা ইলাহা, ইল্লাল্লাহ”-এ বাক্যে দুটি অংশ রয়েছে। “লা ইলাহা” অর্থ হলো “কোনো ইলাহ নেই”। এবং “ইল্লাল্লাহ” অর্থ হলো আল্লাহ ছাড়া। সুতরাং পিথাগোরাসের কথা অনুযায়ী “লা ইলাহা” এর মান হলো [০] শূন্য। এবং ‘ইল্লাল্লাহ’ এর মান [১] এক। এখানে দেখুন, বাক্যটির প্রথম অংশের মান [০] শূন্য, এবং পরের অংশের মান [১] এক। সুতরাং সম্পূর্ণ বাক্যটির মান [০১] বা এক। কিন্তু বাক্যটির প্রথম অংশের মান যদি [১] হত, এবং পরবর্তী অংশের মান যদি [০] শূন্য হত, তাহলে সম্পূর্ণ বাক্যটির মান [১০] হয়ে যেত। আল্লাহ যেহেতু এক, তাই এ বাক্যের মান ১০ হয়ে গেলে বাক্যটি সংখ্যাগতভাবে শুদ্ধ ও সঠিক হত না। কিন্তু এখন আমরা দেখতে পারছি, বাক্যটি সংখ্যাগতভাবে সম্পূর্ণ সঠিক। সহজ কথায়, “লা ইল...

আল্লাহকে ছাড়া কেউ কি ভালো হতে পারে?

আল্লাহকে বিশ্বাস করা ছাড়া কেউ কি ভালো মানুষ হতে পারে? হ্যাঁ, হতে পারে। কারণ, আমরা মাঝে মধ্যে দেখি, নাস্তিক-সেকুলারগণও ভালো কিছু কথা বলছেন। এবং তারাও মাঝে মধ্যে মানুষের উপকার করার চেষ্টা করেন। এখন, প্রশ্ন হলো, আল্লাহকে ছাড়া কি কেউ ভালো মানুষ হতে পারে? উত্তর – না। আল্লাহকে ছাড়া কেউ ভালো মানুষ হতে পারে না। পার্থক্যটি লক্ষ করুন। আল্লাহকে ‘বিশ্বাস করা’ ছাড়া কেউ ভালো মানুষ হতে পারলেও আল্লাহকে ছাড়া কেউ ভালো মানুষ হতে পারেন না। কারণ, আল্লাহ হচ্ছেন যাবতীয় ভালোর উৎস। পৃথিবীতে গুণবাচক যত নাম আছে এবং ভালো যত কাজ আছে, সবগুলোর উৎস হলেন আল্লাহ তায়ালা। সুতরাং, আল্লাহকে ছাড়া কেউ ভালো মানুষ হতে পারেন না। আরেকটু সহজ করে বলি। ধরুন, আপনারা দুই ভাই বা দুই বোন। আপনার আম্মু বলছেন, তুই তো তোর ভাইয়ের চেয়ে ‘খাটো’। এখানে আপনার আম্মু আপনার ভাইকে স্ট্যান্ডার্ড মনে করে আপনাকে ‘খাটো’ বলছেন। কিন্তু আপনার খালাতো ভাই যদি আপনার চেয়েও ‘খাটো’ হয়, তখন আপনার আম্মু আবার বলবেন, তুই তো তোর খালাতো ভায়ের চেয়ে ‘লম্বা’। অর্থাৎ একই আপনি দুইটি ভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড এর কারণে একবার ‘খাটো’ হিসাবে বিবেচিত হলেন, আবার ‘লম্বা’ হিসাবে বিবেচিত ...

এসো, আজি সুন্দরের রঙে হই রঙিন

সুন্দরকে কে না ভালোবাসে! সবাই সুন্দর হতে চায়, কিন্তু সুন্দর হওয়ার কৌশল খুব অল্প মানুষই জানে। শিল্পীরা বলেন, সুন্দর হতে হলে নাকি রঙের ধারণা থাকতে হয়। সুন্দরের সাথে রঙের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোন রঙের সাথে কোন রঙ ভালো মিলে, তা না জানলে সুন্দরের শিল্পী হওয়া যায় না। যার কাছে রঙের জ্ঞান নেই, সে সৌন্দর্যকে অবলোকন করতে পারে না। সুন্দরকে আমরা বুঝি রঙের মাধ্যমে। রঙের সাথে রঙের মিলনেই সৌন্দর্য ফুটে উঠে। কিন্তু, রঙের কি কোনো অস্তিত্ব আছে? রঙ আসলে কি? বিজ্ঞানীরা বলেন, রঙ হলো আলোরই একটি রূপ। আলোর মাঝেই সকল রঙ লুকায়িত থাকে। যদি কোনো আলো প্রিজমের এক পাশ দিয়ে প্রবেশ করে, তাহলে অন্য পাশে দিয়ে সাত রঙ হয়ে বের হয়। আমরা একে বলি রঙধনু। রঙধনুর মাধ্যমে বিশ্বের সব রঙ তৈরি হয়। আচ্ছা, রঙের উৎস যদি আলো হয়, তাহলে আলোর আলোর উৎস কি? আমরা জানি, আলোর প্রধান উৎস সূর্য। কিন্তু সব ধরণের আলোর উৎস কি সূর্য? আপনি যে লেখাটি পড়ছেন, এই আলো কোত্থেকে এসেছে? বিদ্যুতের মাধ্যমে; তাই না? বিদ্যুৎ কোত্থেকে এসেছে? কয়লা, পানি বা গ্যাস জাতীয় পদার্থ থেকে। অর্থাৎ, কঠিন, তরল বা বায়বীয় সব ধরণের পদার্থের মাঝেই আলোর উপাদান রয়েছে। আচ্ছা, আস...

স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করেছে?

অবিশ্বাসীগন বলেন, “স্রষ্টা মানুষকে সৃষ্টি করেনি, বরং মানুষ-ই স্রষ্টাকে সৃষ্টি করেছে।” হুম। তাদের কথা ঠিক। মানুষ অসংখ্য ঈশ্বরকে সৃষ্টি করেছে। যেমন, কেউ কৃষ্ণকে ঈশ্বর বানিয়ে পূজা করে। কেউ গৌতম বুদ্ধকে মহাজাগতিক স্রষ্টা ভেবে পূজা করে। কেউ ঈসা (আ)-কে আল্লাহর পুত্র বলে পূজা করে। কেউ আধুনিক বিজ্ঞানের পূজা করে। কেউ সম্পদের পূজা করে। কেউ জ্ঞানের পূজা করে। কেউ ভাস্কর্যের পূজা করে। কেউ শহীদদের স্তম্বকে পূজা করে। মানুষ এভাবে ইতিহাসে অসংখ্য স্রষ্টাকে সৃষ্টি করেছে এবং তার পূজা করছে। তাই, অবিশ্বাসীদের কথা কিছুটা ঠিক। তবে, মানুষ যে-সকল স্রষ্টাকে সৃষ্টি করতে পারে, আমরা তাদের ইবাদাত করি না। আবার, আমরা যে স্রষ্টার ইবাদত করি, মানুষ তাঁকে সৃষ্টি করতে পারে না। পার্থক্যটি এখানে সুস্পষ্ট।

সখী, ভালোবাসা কারে কয়?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বিখ্যাত একটি কবিতায় গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রশ্ন তুলছিলেন। তিনি প্রশ্ন করেন – সখী, ভালোবাসা কারে কয়? সে কি কেবলই যাতনাময়? রবীন্দ্রনাথের কথা হলো, আকাশ-বাতাস, গাছগাছালি, সাগর-নদী, গ্রহ-তারা, চাঁদ-সূর্য, বিশ্বের সবাই ভালোবেসে সুখী হয়। কিন্তু মানুষ কেন ভালোবেসে যন্ত্রণা ভোগ করে? কেন ভালোবাসার যন্ত্রণায় মানুষ নিজে নিজে জ্বলে পুড়ে মরে যায়? কেন এ যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে মানুষ আত্মহত্যা করে? কেন নিজের ভালোবাসার মানুষকে সে নিজেই হত্যা করে? রবীন্দ্রনাথ এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পেয়েছিলেন কিনা জানি না। তবে আলোচ্য প্রবন্ধে আমরা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানার চেষ্টা করব। প্রথমত বোঝার চেষ্টা করি, ভালোবাসা কি? এর কি কোনো বস্তুগত সংজ্ঞা আছে? উত্তর হলো – না। ভালোবাসার কোনো বস্তুগত সংজ্ঞা নেই। ভালোবাসাকে যিনি যেভাবে উপলব্ধি করেন, তিনি সেভাবে এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করেন। ভালোবাসা পানির মত কোনো বস্তু নয় যে তার সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেয়া যায়, এটি হলো অনুভবের বিষয়। বস্তুর আকার, স্থান, কাল ও সীমানা থাকে; কিন্তু অনুভবের আকার, স্থান, কাল বা সীমানা থাকে না। অনুভব বস্তুর ঊর্ধ্বে। তাই ভালোবাসার বস্তুগত...