সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

অহংকার লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

একদিন তো মরেই যাবো

গল্প _____ সুমন সাহেবের সব ইচ্ছাই পূরণ হলো। ছাত্র জীবনে নামকরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছেন। অনার্স ও মাস্টার্সে সর্বোচ্চ রেজাল্ট করেছেন। পড়াশুনা শেষ হতে না হতেই, সোনার হরিণ নামক একটি সরকারী চাকরি পেয়েছেন। এরপর বিয়ে করেছেন সম্ভ্রান্ত এক পরিবারের সুন্দরী আদরের মেয়ে তামান্নাকে। কিছুদিন যেতে না যেতেই তাদের দাম্পত্য জীবনে নতুন ফুটফুটে এক ছেলে সন্তানের আগমন ঘটলো। সুমন সাহেবের নামের সাথে মিলিয়ে সন্তানের নাম রাখা হলো সাফাত। সাফাত এখন আব্বু ডাকতে পারে। এতো বেশি সৌভাগ্যবান হবার কারণে প্রতিবেশীদের কেউ কেউ সুমন সাহেবকে একটু হিংসাও করে। সুমন সাহেবও এটা বুঝেন। নিজের অজান্তেই তার ভিতর একটা অহংকার বোধ কাজ করে। মনের ভিতর যখন অহংকার দানা বাঁধতে শুরু করে, মানুষ তখন তার আশেপাশের লোকদের ছোট মনে করতে থাকে। সুমন সাহেবেরও তাই হলো। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীকে তিনি কিছুটা বিদ্রূপ করেই কথা বলেন। কি নেই তার? ভাবটা এমন যে, তার সবই আছে। শিক্ষা, সম্মান, চাকুরী, টাকা-পয়সা কোনো কিছুর অভাব নেই। বিয়ের দু’বছর পর তামান্নার বাবা মারা যায়। তামান্নার বড় ভাই একটা দোকানে চাকরি করে কোনোভাবে সংসারটা চালিয়ে নিচ্ছেন। শ্বশ...

ধর্মের অহংকার

সব ধরণের আলেম-ওলামা, পীর-বুজুর্গ বা শায়েখ-স্কলারদের কথা শুনতে আমার ভালো লাগে। কিন্তু, কিছু কিছু পীর বা হুজুর এমনভাবে কথা বলেন, শুনে মনে হয়, সম্পূর্ণ জান্নাত তাঁর হাতের তালুর উপর। তিনি ইচ্ছা করলেই জান্নাতকে উল্টা-পাল্টা করে দিতে পারেন। . কিছু কিছু মাদানি শায়েখ বা স্কলার এমনভাবে কথা বলেন, শুনে মনে হয়, তিনি জান্নাতের দারগা। তাঁর কথা না শুনলে তিনি আপনাকে জান্নাতে প্রবেশ করতে দিবেন না। . কিছু কিছু ইসলামী রাজনীতিবিদ এমনভাবে কথা বলেন, শুনে মনে হয়, তিনি পৃথিবীতে না থাকলে এ পৃথিবী থেকে ইসলাম চিরতরে মুছে যেত। এবং, কিছু কিছু আলেম এমনভাবে কথা বলেন, শুনে মনে হয়, তিনি সাধারণ মানুষের কাছে জ্ঞান বিক্রি করার জন্যে জ্ঞান অর্জন করেছেন। সাধারণ মানুষ যদি তাঁর থেকে জ্ঞান ক্রয় না করে, তাহলে তিনি রাগে ও ক্ষোভে খুবই ক্ষিপ্ত হয়ে যান। অবশ্য, সবাই এমন না। কারণ, অনেকেই আল্লাহর এ আয়াতটি মেনে চলেন – فَلَا تُزَكُّوٓا۟ أَنفُسَكُمْ ۖ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ ٱتَّقَىٰٓ “তোমরা নিজে নিজের আত্মপ্রশংসা করো না, (বা নিজেকে নিজে নির্দোষ দাবী করো না) । তিনি ভাল জানেন, কে তাঁকে ভয় করে। [সূরা ৫৩/নাজম - ৩২] ______ আল্লাহ তায়ালা আমাদ...

ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান

১ম পর্ব যুক্তি ও বুদ্ধি দিয়ে ইসলামকে বুঝতে গেলে অনেকেই বলতে শুরু করেন - ‘দ্যাখ, ইবলিস কিন্তু তোর মত যুক্তি দিতে গিয়েই কাফের হইছিল’। যুক্তির বিরুদ্ধে ‘যুক্তি’ প্রদান করে অনেকে বলেন... ‘ইবলিস আল্লাহর সামনে ‘যুক্তি’ প্রদান করার কারণে সে কাফির ও শয়তান হয়ে গেছে’। কিন্তু, আল্লাহ তায়ালা বলেন... فَسَجَدَ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ إِلَّا إِبْلِيسَ اسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ “সমস্ত ফেরেশতা একযোগে সেজদায় নত হল। কিন্তু ইবলিস অহংকার করল এবং সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল”। [সূরা ৩৮ /সাদ – ৭৪] দেখুন, আমরা বলি, ইবলিস ‘যুক্তি’ প্রদান করার কারণে কাফির হয়ে গেছে; কিন্তু আল্লাহ তায়ালা বলছেন, ইবলিস অহংকার করার কারণে কাফির হয়েছে। তাহলে এখানে কার কথা সত্য?

সূরা কাহাফ : একটি রাজনৈতিক শিক্ষা

সূরা কাহাফে চারটি ঘটনার বর্ণনা আছে। এই চারটি ঘটনার সাথে জড়িত আছে চার ধরণের ফিতনা এবং তা থেকে মুক্তি পাবার উপায়। ঘটনাগুলো হলো – ১) আসহাবে কাহাফ বা গুহাবাসীদের ঘটক্ষা ২) দুই বাগানের মালিক ও তার বন্ধুর ঘটনা, ৩) মুসা (আ) ও খিজির (আ)-এর ঘটনা, এবং ৪) যুলকারনাইন এর ঘটনা, আর, ফিতনাগুলো হলো – ১) সমাজের ফিতনা, যেখানে ধর্ম ও বিশ্বাস টিকিয়ে রাখা যায় না। ২) সম্পদের ফিতনা, যা দিয়ে মানুষ নিজেকে সর্বাধিকারী মনে করে। ৩) জ্ঞানের ফিতনা, যা দিয়ে মানুষ অহংকার করে। এবং ৪) ক্ষমতার ফিতনা, যা দিয়ে মানুষ অন্যের উপর জুলুম করে। এবার আসুন, এই চারটি ঘটনার সাথে চারটি ফিতনার সংযুক্তি কি এবং এর থেকে মুক্তির উপায় কি, তা সূরা কাহাফ থেকে বিস্তৃতভাবে দেখে নেয়া যাক।