সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

জিন লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ফেরেশতা, জিন ও মানুষের সম্পর্ক

প্রতিটি মানুষের মাঝে দুটি সত্ত্বা থাকে। একটি জিন সত্ত্বা, এবং অন্যটি ফেরেশতা সত্ত্বা। জিন সত্ত্বা মানুষকে সবসময় খারাপ কাজের আদেশ দেয়, আর ফেরেশতা সত্ত্বা মানুষকে সবসময় ভালো কাজের আদেশ দেয়। মানুষের কাজ হলো, ফেরেশতা সত্ত্বার দ্বারা জিন সত্ত্বাকে প্রতিহত করা। মানুষের ভিতরের ফেরেশতা সত্ত্বা যদি কখনো তার জিন সত্ত্বাকে হারাতে পারে, তাহলে মানুষ মুসলিম হতে পারে। কিন্তু জিন সত্ত্বা যদি ফেরেশতা সত্ত্বাকে হারিয়ে দেয়, তাহলে মানুষ শয়তান হয়ে যায়। এ কারণে, ইসলামে ফেরেশতাকে বিশ্বাস করতে বলা হয়েছে, কিন্তু জিন ও শয়তানকে বিশ্বাস করতে বলা হয়নি। রেফারেন্স:

জিন-ভূতের বিশ্বাস!

– তুই কি জিন-ভূত বিশ্বাস করিস? : না – কি বলিস? জিনের কথা তো কোর'আনেও আছে। ভূতকে বিশ্বাস না করলেও চলবে, কিন্তু জিনকে তো বিশ্বাস করতে হবে। : হুম। কোর'আনে তো ইবলিস, ফিরাউন ও আবু লাহাব সহ অনেকের কথাই আছে। তাই বলে কি আপনি তাদেরকে বিশ্বাস করবেন? – না। কিন্তু... : এখানে কোনো কিন্তু নেই। বিষয়টি একেবারে স্পষ্ট। কোনো কিছুকে বিশ্বাস করা মানে কেবল তাঁর অস্তিত্বে বিশ্বাস করা নয়। ইসলামে সাতটি বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর গ্রন্থসমূহ, তাঁর রসূলগণ, আখিরাত, আল্লাহর নির্ধারিত ভাগ্য, এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থান। এগুলোকে একত্রে বলা হয় অদৃশ্যে বিশ্বাস। ইসলামের কোথাও জিনকে বিশ্বাস করতে বলা হয়নি। কিন্তু, জিন আছে বলে কোর’আনে বর্ণনা করা হয়েছে।

ইবলিশ শয়তানের কি দোষ?

প্রশ্নটা কিছুটা দার্শনিক। কোর’আন নিয়ে দার্শনিকরা প্রায়ই এ প্রশ্নটি করে থাকেন। তারা বলেন, কোর’আনে আছে – وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ “আমি যখন আদম কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে বললাম, তারা সবাই সেজদা করল। কিন্তু ইবলিস সেজদা করেনি। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল ।” [সূরা বাকারা, আয়াত – ৩৪] এখানে দার্শনিকদের প্রশ্ন হলো, আল্লাহ তায়ালা কেবল ফেরেশতাগণকে সেজদা করতে আদেশ করেছেন। তাই ফেরেশতাগন সবাই সেজদা করেছে। কিন্তু ইবলিস সেজদা না করার কারণ হলো সে ফেরেশতা ছিল না। সে ছিল জিনদের একজন। সুতরাং, ইবলিসের এখানে কি অন্যায় আছে? সে তো আল্লাহর আদেশ অমান্য করেনি। দার্শনিকদের এ প্রশ্নের উত্তর আছে আল কোর’আনের অন্য একটি আয়াতে।