সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আল্লাহকে ছাড়া কেউ কি ভালো হতে পারে?

আল্লাহকে বিশ্বাস করা ছাড়া কেউ কি ভালো মানুষ হতে পারে?

হ্যাঁ, হতে পারে। কারণ, আমরা মাঝে মধ্যে দেখি, নাস্তিক-সেকুলারগণও ভালো কিছু কথা বলছেন। এবং তারাও মাঝে মধ্যে মানুষের উপকার করার চেষ্টা করেন।

এখন, প্রশ্ন হলো, আল্লাহকে ছাড়া কি কেউ ভালো মানুষ হতে পারে?


উত্তর – না। আল্লাহকে ছাড়া কেউ ভালো মানুষ হতে পারে না।

পার্থক্যটি লক্ষ করুন।

আল্লাহকে ‘বিশ্বাস করা’ ছাড়া কেউ ভালো মানুষ হতে পারলেও আল্লাহকে ছাড়া কেউ ভালো মানুষ হতে পারেন না। কারণ, আল্লাহ হচ্ছেন যাবতীয় ভালোর উৎস।

পৃথিবীতে গুণবাচক যত নাম আছে এবং ভালো যত কাজ আছে, সবগুলোর উৎস হলেন আল্লাহ তায়ালা। সুতরাং, আল্লাহকে ছাড়া কেউ ভালো মানুষ হতে পারেন না।

আরেকটু সহজ করে বলি।

ধরুন, আপনারা দুই ভাই বা দুই বোন। আপনার আম্মু বলছেন, তুই তো তোর ভাইয়ের চেয়ে ‘খাটো’।

এখানে আপনার আম্মু আপনার ভাইকে স্ট্যান্ডার্ড মনে করে আপনাকে ‘খাটো’ বলছেন। কিন্তু আপনার খালাতো ভাই যদি আপনার চেয়েও ‘খাটো’ হয়, তখন আপনার আম্মু আবার বলবেন, তুই তো তোর খালাতো ভায়ের চেয়ে ‘লম্বা’।

অর্থাৎ একই আপনি দুইটি ভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড এর কারণে একবার ‘খাটো’ হিসাবে বিবেচিত হলেন, আবার ‘লম্বা’ হিসাবে বিবেচিত হলেন।

সুতরাং, কাউকে লম্বা বা খাটো বলার জন্যে আপনার আম্মুকে একটা স্ট্যান্ডার্ড ধরে নিতে হয়েছিল।

ঠিক, তেমনি, পৃথিবীর যাবতীয় ভালোকে নির্ণয় করার জন্যে একটি স্ট্যান্ডার্ড ধরে নিতে হয়। আল্লাহ তায়ালা হলেন যাবতীয় ভালোর উৎস ও ভালোর স্ট্যান্ডার্ড। আমরা যতবেশি আল্লাহর গুনে গুণান্বিত হতে পারি, আমরা তত ভালো হই। আর যতবেশি আমরা আল্লাহর থেকে দূরে সরে যাই, ততবেশি খারাপ হয়ে যাই।

সুতরাং, আল্লাহ-ই হলো ভালোর একমাত্র উৎস ও স্ট্যান্ডার্ড। আল্লাহকে বিশ্বাস করা ছাড়া কেউ ভালো হতে পারলেও আল্লাহকে ছাড়া কেউ ভালো হতে পারেন না।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একনজরে রূহ, প্রজ্ঞা, জ্ঞান, হৃদয়, মন, দেহ, কামনা, নফস, শয়তান

মানব শরীর অনেক জটিল প্রক্রিয়ায় কাজ করে। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মানুষের জন্যে একজন ফেরেশতা ও একজন শয়তান নিয়োগ করেন। ফেরেশতা মানুষের রুহের সাথে সম্পর্কযুক্ত, এবং শয়তান মানুষের নফসের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আল্লাহ ও ফেরেশতাদের বার্তাগুলো 'রূহ' নামক ডাকপিয়ন বিবেকের সাহায্যে মানুষের হৃদয়ের কাছে পাঠায়। এবং শয়তানের বার্তাগুলো 'হাওয়া' নামক ডাকপিয়ন নফসের সাহায্যে মানুষের হৃদয়ের কাছে পাঠায়। হৃদয় হলো মানুষের রাজা। সে কখনো নফসের বার্তা অনুযায়ী কাজ করে, আবার, কখনো রূহ ও বিবেকের বার্তা অনুযায়ী  কাজ করে। হৃদয় যখন নফসের কথা শুনে, তখন সে অন্ধকার ও অজ্ঞতার দিকে ধাবিত হয়। কিন্তু হৃদয় যখন রূহের বার্তা শুনে, তখন সে আলো ও জ্ঞানের দিকে ধাবিত হয়। বিবেক হলো জ্ঞানকে কাজে লাগানোর যন্ত্র। অনেক মানুষের জ্ঞান আছে, কিন্তু বিবেক না থাকায়, সে রূহের নির্দেশনা বুঝতে পারে না। দেহ ও প্রাণ আলাদা জিনিস। মানুষ ছাড়াও অন্য প্রাণীদের দেহ ও প্রাণ রয়েছে। কিন্তু, রূহ ও শয়তান কেবল মানুষের জন্যেই নিযুক্ত করা হয়েছে।

নারী কি পুরুষের পাঁজরের হাড়?

“নারীদেরকে পুরুষের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে” – এ কথাটি আমরা প্রায়ই শুনি। ইসলামকে বিতর্কিত করার জন্যে অনেকেই এ কথাটি বলে থাকেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইসলাম ধর্মের কোথাও এ কথাটি নেই। এটি হলো খ্রিস্টান ধর্মের একটি কথা। বাইবেলে বলা হয়েছে – Then the LORD God made a woman from the rib he had taken out of the man, and he brought her to the man. [Bible, New International Version, Genesis,Chapter 2, Verse 22] “স্রষ্টা পুরুষের পাঁজর থেকে একটি হাড় নিয়ে তা দিয়ে একজন নারীকে সৃষ্টি করেছেন। এবং তিনি নারীটিকে পুরুষের সামনে উপস্থিত করলেন।“ বাইবেলের এই লাইনটির ব্যাখ্যায় খ্রিস্টানগণ বলেন, আল্লাহ তায়ালা প্রথম আদম (আ)-কে সৃষ্টি করেছেন। এরপর আদমের পাঁজর থেকে একটি হাড় সংগ্রহ করেন। তারপর তা থেকে হাওয়া (আ)-কে সৃষ্টি করেন। খ্রিস্টানদের এ কথাটি এখন মুসলিম সমাজে খুবই পরিচিত। কিন্তু এর কারণ কি? মূলত, রাসূল (স) –এর একটি হাদিসকে কোর’আনের সাহায্যে ব্যাখ্যা না করে, বাইবেলের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলেই এ সমস্যাটি সৃষ্টি হয়েছে।

ইহুদী ও খ্রিস্টান শরিয়তের মধ্যবর্তী শরীয়ত ইসলাম

ইহুদি শরিয়তের নিয়ম হলো - কেউ আপনাকে একটি ঘুষি দিলে, আপনিও তাঁকে আরেকটি ঘুষি দিতে হবে। এখানে ক্ষমা করার কোনো সুযোগ নেই। আর, খ্রিষ্টান শরিয়তের নিয়ম হলো - কেউ আপনাকে একটি ঘুষি দিলে, আপনি তাকে আরেকটি ঘুষি দিতে পারবেন না, তাকে ক্ষমা করে দিতে হবে। ইসলাম হলো এ দুটি শরিয়তের মধ্যপন্থী একটি শরিয়ত। যে কোনো অন্যায়ের শাস্তি প্রদান করার ক্ষেত্রে ইসলাম মানুষকে একটি স্বাধীনতা দেয়। কেউ আপনাকে একটি ঘুষি দিলে, হয় আপনি তাকে হুবহু আরেকটি ঘুষি দিতে পারেন, অথবা, অপরাধীকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। যেমন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন - وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُم بِهِ ۖ وَلَئِن صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِّلصَّابِرِينَ "যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ কর, তবে ঐ পরিমাণ প্রতিশোধ গ্রহণ করবে, যে পরিমাণ তোমাদেরকে কষ্ট দেয়া হয়েছে। আর, যদি সবর কর, তাহলে তা সবরকারীদের জন্যে উত্তম।" [সূরা ১৬/ নাহাল - ১২৬] ইসলামি শরিয়াহ পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো আইন হবার পিছনে কারণ হলো, ইসলাম মানুষকে দুটি অপসন দেয়। হয় প্রতিশোধ, না হয় ক্ষমা। এ ক্ষেত্রে ক্ষমা করে দেয়ার জন্যে ইসলাম সুপারিশ করে।