সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মাতৃগর্ভে কি আছে তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জানা সম্ভব?

সূরা লোকমানের শেষ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন – “মাতৃগর্ভে কি আছে তা আল্লাহ জানেন”। কিন্তু আধুনিক যুগে আলট্রাসাউন্ড করেই আমরা জেনে নিতে পারি যে, মায়ের গর্ভের শিশুটি ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে। আল্লাহ যা জানেন, তা তো আমরা নিজেরাই জেনে যেতে পারি। এখানে আল্লাহর বিশেষত্ব আর কি রইলো? একজন ভাইয়া ইনবক্সে এমন একটি প্রশ্ন করেছেন। প্রশ্নের উত্তরে যাবার আগেই সূরা লোকমানের শেষ আয়াতটা দেখে নেই। আল্লাহ তায়ালা বলছেন – إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ ۖ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا ۖ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ “কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহ নিকট রয়েছে। তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন। তিনি জানেন মাতৃগর্ভে কি আছে। কেউ জানে না আগামীকাল সে কি উপার্জন করবে। কেউ জানে না কোন স্থানে তার মৃত্যু হবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত।” [সূরা ৩১ / লোকমান - ৩৪] ------------- ব্যাখ্যা – ১ ------------- এ আয়াতে পাঁচটি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। সবগুলো বিষয়ে আল্লাহর জানা আছে, কিন্তু সবগুলো জানা একই ধরণের নয়। ...

বিজ্ঞানের ভিত্তি কল্পনা

বিজ্ঞান যে শাস্ত্রের মাধ্যমে গড়ে উঠে তার নাম গণিত। গণিত ছাড়া বিজ্ঞান অকল্পনীয়। কিন্তু, গণিতের কোনো অস্তিত্ব বাস্তব জগতে নেই, গণিত গড়ে উঠে কিছু কাল্পনিক ধারনার উপর ভিত্তি করে। যেমন ধরুন, আমি যদি বলি "কলা", তাহলে বাস্তব জগতে আপনি একটি কলাকে ধরতে পারবেন, এবং ইচ্ছে করলে খেতেও পারবেন। কিন্তু, আমি যদি বলি "৫', তাহলে "পাঁচ" নামের কোনো কিছুকে আপনি বাস্তব জগতে খুঁজে পাবেন না, এবং হাত দিয়ে ধরতেও পারবেন না। "৫" নামের একটি সংখ্যাকে আমরা উচ্চারণ করতে পারি, এবং কলম দিয়ে কাগজে লিখতে পারি, কিন্তু  বাস্তব জগতে "৫" নামের কোনো কিছুকে আমরা খুঁজে পাই না। অথচ, "৫" ছাড়া গণিত অচল, এবং গণিত ছাড়া বিজ্ঞান অচল। অর্থাৎ, বিজ্ঞান গড়ে উঠে কিছু কাল্পনিক ধারনার উপর ভিত্তি করে, যা বাস্তব জগতে পাওয়া যায় না। যারা বলেন, আমরা আল্লাহকে না দেখে বিশ্বাস করি না, তারা কিন্তু ঠিকই গণিতের সংখ্যাগুলোকে বাস্তব জগতে না দেখেই বিশ্বাস করে। তাদেরকে আপনি যদি বলেন, "দেখি আমাকে বাস্তব জগতে গণিতের সংখ্যাগুলো দেখাও তো", তখন সে আপনাকে কিছুই দেখাতে পারবে না।

আল ফারাবী প্রসঙ্গে

একটি উত্তম রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আল ফারাবী বলেন – يكون كل واحد من أهلها مطلق خال بنفسه يعمل ما يشاء، أهلها يتساوون وسنتهم أن لا فضل لإنسان على إنسان في شيء أصلاً. ويكون أهلها أحرارًا يعملون ما يشاؤون ولا يكون لأحد على أحد منهم ولا من غيرهم سلطان إلا أن يعمل ما تزول به حريتهم. [الفارابي : "السياسة المدنية"، تحقيق فوزي متري النجار ط 1 المطبعة الكاتوليكية بيروت في 1964 ص 99] অর্থাৎ, “একটি উত্তম রাষ্ট্রের অধিবাসীরা প্রত্যেকে নিজেই নিজের অধীনে থাকবে, এবং সে যা ইচ্ছে, তা করতে পারবে। সে রাষ্ট্রের অধিবাসীরা সবাই সমান মর্যাদার অধিকারী হবে, কোনও একজন মানুষ অন্য মানুষের উপর বিশেষ মর্যাদা প্রাপ্ত হবে না। এর অধিবাসীরা সবাই স্বাধীন, কেউ কারো উপর কর্তৃত্ব করতে পারবে না। তবে, কেউ কারো স্বাধীনতা হরণ করলে তখন ভিন্ন কথা”। আল ফারাবীর “জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র”-এর ধারণা বর্তমান গণতান্ত্রিক আধুনিক রাষ্ট্রের চেয়েও অনেক বেশি উন্নত ছিলো। ________________________

মানুষ, প্রাণী ও বস্তুর সাথে ভাষার সম্পর্ক

আমাদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয়, ভাষা মানে কি? তখন আমাদের মনে “অ, আ, ক, খ” এমন বর্ণগুলো ভাসতে থাকে। এ কারণে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি আসলেই চতুর্দিকে বিভিন্ন পোষ্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ডে আমরা বাংলা বর্ণগুলো নিয়মিত দেখতে পাই। এরপর, আমাদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয়, মাতৃভাষা কাকে বলে? তখন ছোটবেলায় মায়ের কাছে আমরা যে ভাষাটি শিখেছি, তা মনে পড়ে। আসলে ভাষা মানে চোখে দেখা কয়েকটি অক্ষর, অথবা, কানে শুনা কয়েকটি শব্দ নয়। ভাষা মানে হচ্ছে ভাবের বিনিময়। আমাদের মনে যখন কোনো একটি ভাবের উদয় হয়, তখন সে ভাবটি অন্যের নিকট উপস্থাপন করাকেই ভাষা বলে। মানুষের জন্যে ভাব প্রকাশ করার সবচেয়ে সহজ ও প্রাচীন মাধ্যম হলো মুখ দিয়ে শব্দ উচ্চারণ করা, এবং কান দিয়ে তা শুনা। কিন্তু, প্রাচীন কালে কথা বলার মাধ্যমে যে ভাব প্রকাশ করা হতো, তা খুব অস্থায়ী ও সীমিত রূপ ধারণ করতো। কারণ, মুখে কোনো শব্দ উচ্চারণ করার সাথে সাথে তা বাতাসে মিশে যেতো। তখন মুখের আশেপাশে থাকতো, তারাই কেবল মুখে উচ্চারিত শব্দগুলোর ভাব বুঝতে পারতো।

আল্লাহ যদি দয়ালু হন, তাহলে তিনি মানুষকে বিপদের সম্মুখীন করেন কেন?

দয়া করার অর্থ সবসময় মানুষের ভালো করা, ব্যাপারটা এমন না। কখনো কখনো মানুষকে একটি বড় বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্যে একটি ছোট বিপদের মধ্যে ফেলে দেয়াও এক ধরণের দয়া। যেমন, একজন ডাক্তার দয়ালু হয়ে একজন গর্ভবতী মায়ের পেট কেটে বাচ্চা বের করেন। এ ক্ষেত্রে এই ডাক্তারকে কি আমরা দয়াহীন বলতে পারি? পারি না। কারণ এখানে ডাক্তার একজন গর্ভবতী মাকে বড় একটি বিপদের থেকে বাঁচানোর জন্যে ছোট একটি বিপদে ফেলে দিয়েছেন। তেমনি, আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে জাহান্নামের অনেক বড় বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্যে মাঝে মধ্যে দুনিয়াতে কিছু ছোট-খাটো কিছু বিপদ দেন। তিনি যে মানুষকে ছোট-খাটো বিপদের সম্মুখীন করেন, এটাও তাঁর একটি দয়া। ফিরাউনকে আল্লাহ তায়ালা জীবনে কোনো অসুখ দেননি, কারণ, তাঁর প্রতি আল্লাহর খুব বেশি দয়া ছিলো না। আমাদেরকে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন বিপদ-আপদ দেন, কেননা, আমাদের প্রতি আল্লাহর দয়া বেশি।

কোর’আনে নবী-রাসূলদের এতো বেশি কাহিনী কেন?

কেউ যখন প্রথম প্রথম কোর’আন পড়তে শুরু করে, তখন মনে হয়, কোর’আনে কেবল আগেকার যুগের নবী-রাসূলদের কিচ্ছা-কাহিনী দিয়ে ভরা। তাই, অনেকেই কোর’আন পড়ে খুব বেশি মজা পায় না। আসলে কোর’আনের বর্ণিত অতীতের নবী রাসূলদের সকল গল্পের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ (স)-কে বিভিন্ন শিক্ষা দিয়েছিলেন। উদাহরণ স্বরূপ মুসা (আ)-এর কাহিনীগুলো দেখুন, সূরা আরাফ, সূরা শুআরা, সূরা কাসাস, সূরা সাফফাত সহ যেসব সূরা মক্কায় নাযিল হয়েছে, সেগুলো পড়লে আমরা দেখব যে, সেখানে মূসা (আ)-এর সাথে ফিরাউনের দ্বন্দ্বের বিষয়টি বারবার আলোচনা করা হচ্ছে। কারণ, তখন মক্কা জীবনে রাসূল (স)-এর সাথে আবু জাহেলদের ব্যাপক দ্বন্দ্ব হচ্ছিল। তাই, তখন আল্লাহ তায়ালা রাসূল (স) ও সাহাবীদেরকে মক্কার বিভিন্ন পরিস্থিতির মোকাবেলা করার জন্যে মূসা (আ) ও ফিরাউনের কাহিনীগুলো বর্ণনা করছিলেন। কিন্তু, রাসূল (স) মদিনায় যাবার পর মূসা (আ) ও ফিরাউনের কাহিনী আর নাযিল হয়নি। তখন শুরু হয়েছে, মূসা (আ)-এর সাথে বনী ইজরাইলের দ্বন্দ্বগুলোর আলোচনা। কেননা, মদিনায় আসার পর মক্কার মতো রাসূল (স)-এর আর কোনো শত্রু ছিলো না। কিন্তু তখন আবার শুরু হলো মুনাফিকদের চক্রান্ত। ফলে, সূরা বাকারা সহ ম...

আদম (আ)-এর গল্পের শিক্ষা কি?

কোর’আনের প্রতিটি ঘটনাই আমাদের জন্যে শিক্ষণীয়। কেবল নবী রাসুলদের ইতিহাস জানানোর জন্যে আল্লাহ তায়ালা কোর’আনে বিভিন্ন কাহিনী দিয়ে ভরে রাখেননি, বরং প্রতিটি কাহিনীর পিছনে আমাদের জন্যে অসংখ্য শিক্ষা রয়েছে। যেমন, আদম (আ)-কে জান্নাত থেকে নামিয়ে দেয়ার ঘটনাকে আমরা একটি ঐতিহাসিক তথ্য আকারে গ্রহণ করি। অথবা, মূসা (আ)-এর নদী পার হয়ে যাবার ঘটনাকে আমরা একটি অলৌকিক মুজিযা আকারে গ্রহণ করি। কিন্তু এসব ঘটনা কেবল ঐতিহাসিক কোনও তথ্য দেয়ার জন্যে, অথবা কোনও নবীর মুজিযা প্রকাশ করার জন্যে বর্ণনা করা হয়নি। বরং আমাদেরকে শিক্ষা দেয়ার জন্যেই এসব ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ আদম (আ)-এর কাহিনীটি কল্পনা করা যাক, কোর’আনে আদম (আ)-কে জান্নাত থেকে নামিয়ে দেয়ার কাহিনীটি যখন বর্ণনা করা হয়, তখন আমরা ভাবতে থাকি, এটি আদম (আ)-এর কাহিনী, সুতরাং এই ঘটনাটি থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়ার তেমন কিছু নেই। অথচ আদম এর ঘটনাটি আমাদের প্রতিটি মানুষের জীবনে প্রতিদিন ঘটে থাকে। দেখুন, আদম (আ)-কে আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের সব গাছ থেকেই খাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু কেবল একটি গাছ থেকে খেতে নিষেধ করেছিলেন। তেমনি, আমাদেরকেও আল্লাহ তায়ালা সবকিছু খাওয়...