সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নারী দিবসের পাঁচমিশালি

নারী দিবসের পাঁচমিশালি



"নারীদের খারাপ আচরণের উপর ধৈর্য ধারণ করার মধ্যেও নানা প্রকার এবাদত নিহিত রয়েছে, যার সাওয়াব নফল এবাদতের চেয়ে কম নয়"।

[ইমাম গাজালি, এহইয়াউ উলুমিদ্দীন, মুহিউদ্দীন খান অনূদিত, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫৯]



বিয়ে করার বিপদ থেকে এমন ব্যক্তিই নিরাপদ থাকবে, যে বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান, নারী চরিত্র সম্পর্কে অভিজ্ঞ, নারীদের কটু কথায় ধৈর্যশীল এবং তাঁদের হক আদায় করতে আগ্রহী। কিন্তু এখন তো অধিকাংশ লোক নির্বোধ, কটুভাষী, কঠোর স্বভাব এবং বেইনসাফ। যদিও নিজের জন্যে খুব ইনসাফ প্রত্যাশী। এরূপ লোকদের জন্যে অবিবাহিত থাকাই অধিক নিরাপদ।

[ইমাম গাজালি, এহইয়াউ উলুমিদ্দীন, মুহিউদ্দীন খান অনূদিত, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫৭]



ইসলাম ছাড়া পৃথিবীতে এমন কোনো ধর্ম বা দর্শন আছে কি, যারা বলে নারীর (মায়ের) পায়ের নিচে জান্নাত?

- এরদোয়ান।



উসমানী খিলাফতের ৬২৫ বছরে শরিয়া আইনের মাধ্যমে মাত্র ১ জন যিনাকারিণীকে হত্যা করা হয়েছিলো। কিন্তু আমাদের সেক্যুলার দেশে ধর্ষণ, জিনা ও অবাধ যৌনাচারের কারণে প্রতিদিন-ই নারীদের হত্যা করা হচ্ছে।



স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মার্কেট, বাবার বাড়ী, স্বামীর বাড়ী, আত্মীয় স্বজনের বাড়ী, সবস্থানে নারীরা যেতে পারে; কেবল একটি স্থানে নারীরা যাবার অনুমতি পায় না, তা হলো আল্লাহর ঘর মসজিদ।



ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল সহ অধিকাংশ ফকিহ এর মতে, নারীদের ব্যবহৃত গয়নার উপর যাকাত নেই।

এর কারণ হলো, পুরুষদের জন্যে এক বছরের খাওয়ারের টাকাটা যেমন অতীব প্রয়োজন। নারীদের জন্যে গয়না তেমন অতীব প্রয়োজনীয়। আর, অতীব প্রয়োজনীয় জিনিসের যাকাত দিতে হয় না।



ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীরা সব সময় এগিয়ে ছিলো। আমরা জানি, প্রথম মুসলিম ছিলেন খাদিজা (রা)।

রাসূল (স) সকল ফুফু শুরুতেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তাঁর সকল চাচা ইসলাম গ্রহণ করেন নি।

আবু বকর (রা)-এর বাবার আগে তাঁর মা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

ওমর (রা) এর আগে তাঁর বোন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে যতো মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন, সবার মায়েরা ইসলাম গ্রহণ করলেও সবার বাবারা ইসলাম গ্রহণ করেনি।



সমাজের সংজ্ঞা অনুযায়ী,

নারীর জন্যে পুরুষের যে ত্যাগ, তার নাম ভালোবাসা।

আর,

পুরুষের জন্যে নারীর যে ত্যাগ, তার নাম সেক্রিফাইস বা কম্প্রোমাইজ।



নারী ও পুরুষকে আল্লাহ তায়ালা পরস্পর ভিন্নভাবে সৃষ্টি করেছেন। ফলে, উভয়ের চিন্তা করার ধরণ ভিন্ন, অনুভব করার আবেগ ভিন্ন, কথা বলার ভাষা ভিন্ন, একে অপরকে বুঝার উপায় ভিন্ন, প্রতিক্রিয়া দেখানোর পন্থা ভিন্ন, প্রতিবাদ করার পদ্ধতি ভিন্ন, ভালোবাসার ছন্দ ভিন্ন, প্রয়োজন ও ইচ্ছা ভিন্ন।

নারী-পুরুষ উভয়ের মাঝে যখন ভুল বুঝাবুঝি শুরু হয়, তখন একটু অপেক্ষা করা উচিত; এবং নিজেকে নিজে প্রশ্ন করা উচিত যে, আপনি কি আসলেই আপনার প্রতিপক্ষের ভিন্ন ভাষাটি সঠিকভাবে অনুবাদ করতে পেরেছেন?

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একনজরে রূহ, প্রজ্ঞা, জ্ঞান, হৃদয়, মন, দেহ, কামনা, নফস, শয়তান

মানব শরীর অনেক জটিল প্রক্রিয়ায় কাজ করে। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মানুষের জন্যে একজন ফেরেশতা ও একজন শয়তান নিয়োগ করেন। ফেরেশতা মানুষের রুহের সাথে সম্পর্কযুক্ত, এবং শয়তান মানুষের নফসের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আল্লাহ ও ফেরেশতাদের বার্তাগুলো 'রূহ' নামক ডাকপিয়ন বিবেকের সাহায্যে মানুষের হৃদয়ের কাছে পাঠায়। এবং শয়তানের বার্তাগুলো 'হাওয়া' নামক ডাকপিয়ন নফসের সাহায্যে মানুষের হৃদয়ের কাছে পাঠায়। হৃদয় হলো মানুষের রাজা। সে কখনো নফসের বার্তা অনুযায়ী কাজ করে, আবার, কখনো রূহ ও বিবেকের বার্তা অনুযায়ী  কাজ করে। হৃদয় যখন নফসের কথা শুনে, তখন সে অন্ধকার ও অজ্ঞতার দিকে ধাবিত হয়। কিন্তু হৃদয় যখন রূহের বার্তা শুনে, তখন সে আলো ও জ্ঞানের দিকে ধাবিত হয়। বিবেক হলো জ্ঞানকে কাজে লাগানোর যন্ত্র। অনেক মানুষের জ্ঞান আছে, কিন্তু বিবেক না থাকায়, সে রূহের নির্দেশনা বুঝতে পারে না। দেহ ও প্রাণ আলাদা জিনিস। মানুষ ছাড়াও অন্য প্রাণীদের দেহ ও প্রাণ রয়েছে। কিন্তু, রূহ ও শয়তান কেবল মানুষের জন্যেই নিযুক্ত করা হয়েছে।

গণতন্ত্র সময়ের একটি চাহিদা

আজ থেকে ৪০০ বছর আগে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কোনো নির্বাচনের কথা কি আমরা কল্পনা করতে পারি? ধরুন, ১৬১৭ সাল। উসমানী খেলাফতের অধীনে তখন বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ ভূমি। সেই এক-তৃতীয়াংশ ভূমির খেলাফতের দায়িত্ব পালন করছেন সুলতান আহমদ। কেউ যদি তখন বলতো, আমরা সুলতান আহমদের পরিবর্তন চাই এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন চাই। তাহলে তখন কিভাবে সে নির্বাচনটি হত? তখন তো আর ইন্টারনেট বা টেলিভিশন ছিল না, এমনকি প্লেনও ছিল না। নির্বাচন কমিশনারের নির্বাচনী তফসিলটি বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের প্রত্যেকের কাছে ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করতে করতে কমপক্ষে ৩ বছর সময় লেগে যেতো। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সকল মানুষ যেহেতু খলীফা প্রার্থী হবার অধিকার রাখে, সুতরাং নির্বাচন কমিশনারের কাছে তাঁদের মনোনয়ন পত্র দাখিল করতে করতে সময় লাগতো আরো ২ বছর। নির্বাচন কমিশনার লক্ষ লক্ষ মনোনয়ন পত্র বাচাই করতে করতে লাগতো আরো ১ বছর। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের এবং আপিল নিষ্পত্তি করতে সময় লাগতো কমপক্ষে আরো ৫ বছর। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার সময় দিতে হতো কমপক্ষে আরো ১ বছর। কারণ প্রার্থীদেরকে বহুদূর থেকে এসে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হতো। তারপর, প্রা...

ওহী ও জ্ঞানের সম্পর্ক

মুহাম্মদ (স)-এর আগে পৃথিবীতে যখনি কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছিলো, তখন আল্লাহ তায়ালা সেখানে একজন নবী বা রাসূল পাঠিয়ে সমস্যার সমাধান করে দিয়েছিলেন। কিন্তু, মুহাম্মদ (স) যখন বললেন যে, “আমি শেষ নবী, আমার পরে আর কোনো নবী নেই”, তখন নতুন একটি প্রশ্ন জাগ্রত হলো। মুহাম্মদ (স) মারা যাবার পরে পৃথিবীর সমস্যাগুলো কিভাবে সমাধান করা হবে? এ প্রশ্নটির উত্তর পাওয়া যায় রাসূল (স)-এর অন্য একটি হাদিসে। তিনি বলেন – إِنَّ العُلَمَاءَ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ، إِنَّ الأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا إِنَّمَا وَرَّثُوا العِلْمَ، فَمَنْ أَخَذَ بِهِ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ “নিশ্চয় জ্ঞানীগণ হলেন নবীগণের উত্তরসূরি। নবীরা টাকা-পয়সা কিছু রেখে যান না, তারা রেখে যান জ্ঞান। যে জ্ঞান অর্জন করে, সে সৌভাগ্য অর্জন করে।” [সুনানে আবু দাউদ – ৩৬৪১, এবং সুনানে তিরমিজি – ২৬৮২, মাকতাবায়ে শামেলা] এ হাদিসটি থেকে আমরা কিছু অনুসিদ্ধান্তে আসতে পারি –