সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পৃথিবীর প্রথম জঙ্গি কে ছিলেন? প্রসঙ্গ - দাঁড়ি

পৃথিবীর প্রথম জঙ্গি কে ছিলেন, তা একটি নৃতাত্ত্বিক প্রশ্ন। অনেকের মতে, পৃথিবীর মানব ইতিহাসের শুরু থেকেই মানুষের মুখে দাঁড়ি ছিলো। ছুরি, ব্লেড, বা রেজার আবিষ্কার হবার আগে পর্যন্ত মানুষ তাদের মুখের দাঁড়ি কাটতে পারতো না। ফলে, ১০০ বা ২০০ বছর আগে পৃথিবীতে যত মানুষ এসেছিলেন, তাদের প্রায় সবাই জঙ্গি ছিলেন।

পৃথিবীর ইতিহাসে যাদের ছবি বা মূর্তি আমরা কল্পনা করতে পারি, তারা সবাই জঙ্গি ছিলেন। কারণ, সবার মুখেই আমরা দাঁড়ি দেখতে পাই।

উদাহরণ স্বরূপ, সক্রেটিস, প্লেটো ও এরিস্টটল সহ খ্রিষ্টপূর্ব সকল দার্শনিক ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা জঙ্গি ছিলেন। কারণ, সবার মুখেই দাঁড়ি ছিলো।


ইহুদি ধর্মের মূসা, খ্রিস্টান ধর্মের ঈসা, হিন্দুদের অধিকাংশ পুরোহিত সহ আরো যত ধর্ম আছে, সবার প্রতিষ্ঠাতারা জঙ্গি ছিলেন। কারণ, সবার মুখেই দাঁড়ি ছিলো।

বাংলা সাহিত্যের শুরু থেকে বর্তমান, রবীন্দ্রনাথ থেকে নির্মলেন্দু গুণ পর্যন্ত অসংখ্য কবি-সাহিত্যিক জঙ্গি ছিলেন। কারণ, সবার মুখেই দাঁড়ি ছিলো বা আছে।

মানব ইতিহাসের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত যত জ্ঞানী ও দার্শনিক, কবি ও সাহিত্যিক জন্ম লাভ করেছেন, তাদের অধিকাংশ-ই দাঁড়িওয়ালা জঙ্গি ছিলেন। আমিও তাঁদের মতো হতে চাই। তাই, জগতের সকল মহান পুরুষের আদর্শ অনুসরণ করে আমিও দাঁড়ি রেখেছি জীবনের শুরু থেকেই।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আল্লামা জালাল উদ্দিন রূমির বাণী ও কবিতা

ইউরোপ ও অ্যামেরিকা সহ সারাবিশ্বের অমুসলিমরা যে মানুষটির লেখা সবচেয়ে বেশি পড়েন, তিনি মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি। তাঁর ৫ টি বই ও একটি উপদেশ বাণী রয়েছে। ১। মসনবী, (৬ খণ্ড, ২৬০০০ কবিতার লাইন) ২। দিওয়ানে কবির, (৪০০০০ কবিতার লাইন) ৩। ফিহি মা ফিহি, (বিভিন্ন সভা ও মসলিসে দেয়া বক্তব্য) ৪। মাজালিশ-ই শব, (সাতটি বড় বক্তৃতা) ৫। মাকতুবাত, (১৪৭ টি চিঠি) আর একটি উপদেশ রয়েছে। উপদেশটি হলো – "অল্প খাও, স্বল্প ঘুমাও, কম কথা বল। গুনাহ থেকে দূরে থাক, সবসময় কাজ কর। সুখের অনুসন্ধানী মানুষদের থেকে দূরে থাক, এসব মানুষ তোমাকে যন্ত্রণা দিয়ে যাবে। সৎ, ভালো ও সুভাষী মানুষের সাথে থাক। ভালো মানুষ তারা, যাদের দ্বারা সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়। আর, ভালো কথা হলো তাই, যা সংক্ষিপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ। সকল প্রশংসা এক মাত্র আল্লাহর।" [১৭ ডিসেম্বর রূমির 'শবে আরুস'। শবে আরুস অর্থ দ্বিতীয় জন্মের রাত বা মৃত্যুর রাত]

গণতন্ত্র সময়ের একটি চাহিদা

আজ থেকে ৪০০ বছর আগে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কোনো নির্বাচনের কথা কি আমরা কল্পনা করতে পারি? ধরুন, ১৬১৭ সাল। উসমানী খেলাফতের অধীনে তখন বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ ভূমি। সেই এক-তৃতীয়াংশ ভূমির খেলাফতের দায়িত্ব পালন করছেন সুলতান আহমদ। কেউ যদি তখন বলতো, আমরা সুলতান আহমদের পরিবর্তন চাই এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন চাই। তাহলে তখন কিভাবে সে নির্বাচনটি হত? তখন তো আর ইন্টারনেট বা টেলিভিশন ছিল না, এমনকি প্লেনও ছিল না। নির্বাচন কমিশনারের নির্বাচনী তফসিলটি বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের প্রত্যেকের কাছে ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করতে করতে কমপক্ষে ৩ বছর সময় লেগে যেতো। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সকল মানুষ যেহেতু খলীফা প্রার্থী হবার অধিকার রাখে, সুতরাং নির্বাচন কমিশনারের কাছে তাঁদের মনোনয়ন পত্র দাখিল করতে করতে সময় লাগতো আরো ২ বছর। নির্বাচন কমিশনার লক্ষ লক্ষ মনোনয়ন পত্র বাচাই করতে করতে লাগতো আরো ১ বছর। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের এবং আপিল নিষ্পত্তি করতে সময় লাগতো কমপক্ষে আরো ৫ বছর। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার সময় দিতে হতো কমপক্ষে আরো ১ বছর। কারণ প্রার্থীদেরকে বহুদূর থেকে এসে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হতো। তারপর, প্রা...

একনজরে রূহ, প্রজ্ঞা, জ্ঞান, হৃদয়, মন, দেহ, কামনা, নফস, শয়তান

মানব শরীর অনেক জটিল প্রক্রিয়ায় কাজ করে। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মানুষের জন্যে একজন ফেরেশতা ও একজন শয়তান নিয়োগ করেন। ফেরেশতা মানুষের রুহের সাথে সম্পর্কযুক্ত, এবং শয়তান মানুষের নফসের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আল্লাহ ও ফেরেশতাদের বার্তাগুলো 'রূহ' নামক ডাকপিয়ন বিবেকের সাহায্যে মানুষের হৃদয়ের কাছে পাঠায়। এবং শয়তানের বার্তাগুলো 'হাওয়া' নামক ডাকপিয়ন নফসের সাহায্যে মানুষের হৃদয়ের কাছে পাঠায়। হৃদয় হলো মানুষের রাজা। সে কখনো নফসের বার্তা অনুযায়ী কাজ করে, আবার, কখনো রূহ ও বিবেকের বার্তা অনুযায়ী  কাজ করে। হৃদয় যখন নফসের কথা শুনে, তখন সে অন্ধকার ও অজ্ঞতার দিকে ধাবিত হয়। কিন্তু হৃদয় যখন রূহের বার্তা শুনে, তখন সে আলো ও জ্ঞানের দিকে ধাবিত হয়। বিবেক হলো জ্ঞানকে কাজে লাগানোর যন্ত্র। অনেক মানুষের জ্ঞান আছে, কিন্তু বিবেক না থাকায়, সে রূহের নির্দেশনা বুঝতে পারে না। দেহ ও প্রাণ আলাদা জিনিস। মানুষ ছাড়াও অন্য প্রাণীদের দেহ ও প্রাণ রয়েছে। কিন্তু, রূহ ও শয়তান কেবল মানুষের জন্যেই নিযুক্ত করা হয়েছে।