অনেকে বলেন, কোর'বানের ঈদে পশু জবাই করার জন্যে এত টাকা খরচ না করে সে টাকা গরিব-অসহায়কে দিয়ে দেয়া ভালো। আসলে এই ধারণা জন্ম নেয়ার কারণ হলো, আমরা কোরবানির মূল উদ্দেশ্য ভুলে গেছি। কোরবানি মানে প্রাণ উৎসর্গ করা, দান করা নয়। ইব্রাহীম (আ)-এর মতো নিজের প্রাণের চেয়ে প্রিয় সন্তানের প্রাণকে আল্লাহর জন্যে উৎসর্গ করাকে কোরবান বলে। অথবা ইসমাঈল (আ)-এর মতো নিজের জীবনকে আল্লাহর জন্যে উৎসর্গ করাকে কোরবান বলে। কোরবান মানে নিছক কোনো দান-সদকা বা পশুর গোস্ত বিতরণ করা নয়। নামাজ পড়া আর রোজা রাখা যেমন এক নয়, তেমনি কোরবানি আর দান-সদকা এক নয়। দুটি ভিন্ন ভিন্ন দুটি ইবাদাত। নামাজ পড়লে যেমন রোজার কাজ হয় না, তেমনি দান সদকা করলে কোরবানি হয় না।
মানব শরীর অনেক জটিল প্রক্রিয়ায় কাজ করে। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মানুষের জন্যে একজন ফেরেশতা ও একজন শয়তান নিয়োগ করেন। ফেরেশতা মানুষের রুহের সাথে সম্পর্কযুক্ত, এবং শয়তান মানুষের নফসের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আল্লাহ ও ফেরেশতাদের বার্তাগুলো 'রূহ' নামক ডাকপিয়ন বিবেকের সাহায্যে মানুষের হৃদয়ের কাছে পাঠায়। এবং শয়তানের বার্তাগুলো 'হাওয়া' নামক ডাকপিয়ন নফসের সাহায্যে মানুষের হৃদয়ের কাছে পাঠায়। হৃদয় হলো মানুষের রাজা। সে কখনো নফসের বার্তা অনুযায়ী কাজ করে, আবার, কখনো রূহ ও বিবেকের বার্তা অনুযায়ী কাজ করে। হৃদয় যখন নফসের কথা শুনে, তখন সে অন্ধকার ও অজ্ঞতার দিকে ধাবিত হয়। কিন্তু হৃদয় যখন রূহের বার্তা শুনে, তখন সে আলো ও জ্ঞানের দিকে ধাবিত হয়। বিবেক হলো জ্ঞানকে কাজে লাগানোর যন্ত্র। অনেক মানুষের জ্ঞান আছে, কিন্তু বিবেক না থাকায়, সে রূহের নির্দেশনা বুঝতে পারে না। দেহ ও প্রাণ আলাদা জিনিস। মানুষ ছাড়াও অন্য প্রাণীদের দেহ ও প্রাণ রয়েছে। কিন্তু, রূহ ও শয়তান কেবল মানুষের জন্যেই নিযুক্ত করা হয়েছে।