সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মাদ্রাসায় বিদেশি-হিন্দু কবির গান কেন?

বিদেশি অনেক কবি ও লেখককেই আমরা ভালোবাসি। তাই রবীন্দ্রনাথকেও ভালোবাসি।

কিন্তু,

রবীন্দ্রনাথের মত একজন বিদেশি-হিন্দু কবির গান গাইলে মুসলিমদের স্বদেশ প্রেম বাড়ে কিভাবে?

মাদ্রাসার ছাত্র হিসাবে এটা আমরা বুঝি না।

অনেকে বলবেন, তিনি অনেক বড় কবি ছিলেন। ঠিক আছে। তাহলে আসুন, আমরা রূমি, হাফিজ, শেখ সাদি, খলিল জিব্রান, ইউনুস এমরে বা মোহাম্মদ ইকবালের “মুসলিম হ্যায় হাম ওতান হ্যায়” গানটি গেয়ে স্বদেশ প্রেম বাড়াই। তাঁরা সবাই রবীন্দ্রনাথের চেয়েও হাজারগুনে বড় মানের বিদেশি কবি।

অনেকে বলবেন, রবীন্দ্রনাথ বিদেশি হলেও তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার কবি। ঠিক আছে তাহলে। আসুন, আমরা আমাদের জাতীয় কবি নজরুলের “এক আল্লাহ জিন্দাবাদ” গানটি গেয়ে আমাদের দেশ প্রেম বাড়াই। অথবা, কবি ফররুখের “পাঞ্জেরি, রাত পোহাবার কত দেরি?” গানটি গেয়ে সামনে আগাই। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও দেশের সাথে রবীন্দ্রনাথের চেয়ে নজরুল বা ফররুখদের সম্পর্কই সবচেয়ে বেশি।

অনেকে বলেন, “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি” গানটি লিখে রবীন্দ্রনাথ আমাদেরকে ঋণী করে রেখেছেন। ওকে, ঠিক আছে। তাহলে আসুন, আমরা জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, ওস্তাদ আলি আকবর খান বা ওস্তাদ আল্লা রাখা খানদের মত যারা মুক্তিযুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করার জন্যে “কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” করেছেন, আমরা তাঁদের গান গেয়ে স্বদেশ প্রেম বাড়াই। তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশকে রবীন্দ্রনাথের চেয়ে অনেক বেশি সাহায্য করেছিলেন।

অনেকে বলেন, রবীন্দ্রনাথ আধুনিক শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের কাছে অনেক প্রিয়। আচ্ছা, ঠিক আছে। তাহলে আসুন রবীন্দ্রনাথের চেয়ে হাজারগুণ বেশি প্রিয় মাইকেল জ্যাকসন বা সামি ইউছুফের “আল্লাহু আল্লাহু” গানটি গেয়ে স্বদেশ প্রেম বাড়াতে থাকি। তরুণ-তরুণীদের কাছে রবীন্দ্রনাথের চেয়ে মাইকেল জ্যাকসনদের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি।

অনেকে বলেন, রবীন্দ্রনাথের গানে একটা অসাম্প্রদায়িক ভাব আছে। আচ্ছা, ঠিক আছে। তাহলে আসুন, বাংলাদেশের লালন শাহের “খাঁচার ভিতর অচিন পাখি” গেয়ে আমরা আমাদের স্বদেশ প্রেমের চেতনা ধারণ করি। লালন শাহ তো ছিলেন রবীন্দ্রনাথের গুরু।

অনেকে বলেন, রবীন্দ্রনাথ একজন বিশ্ববিখ্যাত কবি। ঠিক আছে। তাহলে আসুন, বিশ্ববিখ্যাত বাংলাদেশি গায়িকা রুনা লায়লার “দমাদম মাস্ত কালান্দার” গানটি গেয়ে আমরা আমাদের চেতনা বাড়াই। রবীন্দ্রনাথের কোনো গানই রুনা লায়লার এই গানটির মত বিশ্বে জনপ্রিয়তা পায়নি।

অনেকে বলেন, গণতন্ত্রের কথা। আচ্ছা, ঠিক আছে। তাহলে আসুন, শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে মুহিব খানের মত কোনো একজনের একটি ইসলামী সঙ্গীত গেয়ে আমরা আমাদের দেশ প্রেমকে জাগ্রত করি। এটা তো গণতন্ত্রের-ই একটি দাবী।

অনেকে বলেন, সমাজতন্ত্রের কথা। আচ্ছা, ওকে। তাহলে আসুন, রবীন্দ্রনাথের মত একজন জমিদারের কোনো গানকে স্বদেশ প্রেমের জন্যে না গেয়ে, লালন শাহের মত একজন ফকিরের গানকে আমরা আমাদের জাতীয় সংগীত হিসাবে নির্ধারণ করতে পারি। লালনের গান যেমন – “আল্লাহ বল মনের পাখি” কিংবা “আয় গো যাই নবীর দ্বীনে” –এ গানগুলোই বাংলাদেশের কৃষক শ্রেণীর জনপ্রিয় গান।

কিন্তু, না।

তারা আমাদের কথা শুনবেন না, আমাদের মন বোঝার চেষ্টা করবেন না। তারা গুণ্ডা ও সন্ত্রাসীদের মত জোর করে রবীন্দ্র ভালোবাসা ও তার গান আমাদের উপর চাপিয়ে দিতে চান। অনেকটা, বাংলাদেশিদেরকে রবীন্দ্রনাথ দ্বারা ধর্ষণ করানোর মত অবস্থা হয়েছে। আচ্ছা, পুলিশ দিয়ে জোর করে কি কাউকে প্রেম করানো যায়?

গণতান্ত্রিকভাবে, শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিমের দেশে, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বাধ্যতামূলকভাবে কোর’আন অধ্যয়ন করার কথা বললে আপনার কাছে সাম্প্রদায়িক মনে হয়। কিন্তু, একজন বিদেশি ও হিন্দু কবির একটি অবৈজ্ঞানিক, অযৌক্তিক, অখ্যাত ও সাম্প্রদায়িক গানকে আপনি কোন যুক্তিতে মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্যে বাধ্যতামূলক করছেন?

যার ভালো লাগে তিনি রবীন্দ্রনাথের গান গাইবেন, অথবা, যার ভালো লাগে তিনি মোহাম্মদ ইকবাল বা নুসরাত ফাতেহ আলী খানের গান গাইবেন। কিন্তু কেনো গণতান্ত্রিক একটি দেশে আমাদের সকল স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে? সরকার স্বৈরাচার হয়ে গেছে বলে?

লোকে বলে, মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি। আমাদের দেশের জন্যে আমরা বাংলাদেশিদের চেয়ে বিদেশি রবীন্দ্রনাথের দরদ বেশি হয়ে গেল নাকি?

রবীন্দ্রনাথ তো আমাদের দেশ, আমাদের শিক্ষা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধী ছিলেন। বিদেশি রবীন্দ্রনাথের বিদেশি গানের সাথে স্বদেশ প্রেমের সম্পর্ক কি?

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আল্লামা জালাল উদ্দিন রূমির বাণী ও কবিতা

ইউরোপ ও অ্যামেরিকা সহ সারাবিশ্বের অমুসলিমরা যে মানুষটির লেখা সবচেয়ে বেশি পড়েন, তিনি মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি। তাঁর ৫ টি বই ও একটি উপদেশ বাণী রয়েছে। ১। মসনবী, (৬ খণ্ড, ২৬০০০ কবিতার লাইন) ২। দিওয়ানে কবির, (৪০০০০ কবিতার লাইন) ৩। ফিহি মা ফিহি, (বিভিন্ন সভা ও মসলিসে দেয়া বক্তব্য) ৪। মাজালিশ-ই শব, (সাতটি বড় বক্তৃতা) ৫। মাকতুবাত, (১৪৭ টি চিঠি) আর একটি উপদেশ রয়েছে। উপদেশটি হলো – "অল্প খাও, স্বল্প ঘুমাও, কম কথা বল। গুনাহ থেকে দূরে থাক, সবসময় কাজ কর। সুখের অনুসন্ধানী মানুষদের থেকে দূরে থাক, এসব মানুষ তোমাকে যন্ত্রণা দিয়ে যাবে। সৎ, ভালো ও সুভাষী মানুষের সাথে থাক। ভালো মানুষ তারা, যাদের দ্বারা সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়। আর, ভালো কথা হলো তাই, যা সংক্ষিপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ। সকল প্রশংসা এক মাত্র আল্লাহর।" [১৭ ডিসেম্বর রূমির 'শবে আরুস'। শবে আরুস অর্থ দ্বিতীয় জন্মের রাত বা মৃত্যুর রাত]

গণতন্ত্র সময়ের একটি চাহিদা

আজ থেকে ৪০০ বছর আগে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কোনো নির্বাচনের কথা কি আমরা কল্পনা করতে পারি? ধরুন, ১৬১৭ সাল। উসমানী খেলাফতের অধীনে তখন বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ ভূমি। সেই এক-তৃতীয়াংশ ভূমির খেলাফতের দায়িত্ব পালন করছেন সুলতান আহমদ। কেউ যদি তখন বলতো, আমরা সুলতান আহমদের পরিবর্তন চাই এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন চাই। তাহলে তখন কিভাবে সে নির্বাচনটি হত? তখন তো আর ইন্টারনেট বা টেলিভিশন ছিল না, এমনকি প্লেনও ছিল না। নির্বাচন কমিশনারের নির্বাচনী তফসিলটি বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের প্রত্যেকের কাছে ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করতে করতে কমপক্ষে ৩ বছর সময় লেগে যেতো। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সকল মানুষ যেহেতু খলীফা প্রার্থী হবার অধিকার রাখে, সুতরাং নির্বাচন কমিশনারের কাছে তাঁদের মনোনয়ন পত্র দাখিল করতে করতে সময় লাগতো আরো ২ বছর। নির্বাচন কমিশনার লক্ষ লক্ষ মনোনয়ন পত্র বাচাই করতে করতে লাগতো আরো ১ বছর। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের এবং আপিল নিষ্পত্তি করতে সময় লাগতো কমপক্ষে আরো ৫ বছর। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার সময় দিতে হতো কমপক্ষে আরো ১ বছর। কারণ প্রার্থীদেরকে বহুদূর থেকে এসে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হতো। তারপর, প্রা...

একনজরে রূহ, প্রজ্ঞা, জ্ঞান, হৃদয়, মন, দেহ, কামনা, নফস, শয়তান

মানব শরীর অনেক জটিল প্রক্রিয়ায় কাজ করে। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মানুষের জন্যে একজন ফেরেশতা ও একজন শয়তান নিয়োগ করেন। ফেরেশতা মানুষের রুহের সাথে সম্পর্কযুক্ত, এবং শয়তান মানুষের নফসের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আল্লাহ ও ফেরেশতাদের বার্তাগুলো 'রূহ' নামক ডাকপিয়ন বিবেকের সাহায্যে মানুষের হৃদয়ের কাছে পাঠায়। এবং শয়তানের বার্তাগুলো 'হাওয়া' নামক ডাকপিয়ন নফসের সাহায্যে মানুষের হৃদয়ের কাছে পাঠায়। হৃদয় হলো মানুষের রাজা। সে কখনো নফসের বার্তা অনুযায়ী কাজ করে, আবার, কখনো রূহ ও বিবেকের বার্তা অনুযায়ী  কাজ করে। হৃদয় যখন নফসের কথা শুনে, তখন সে অন্ধকার ও অজ্ঞতার দিকে ধাবিত হয়। কিন্তু হৃদয় যখন রূহের বার্তা শুনে, তখন সে আলো ও জ্ঞানের দিকে ধাবিত হয়। বিবেক হলো জ্ঞানকে কাজে লাগানোর যন্ত্র। অনেক মানুষের জ্ঞান আছে, কিন্তু বিবেক না থাকায়, সে রূহের নির্দেশনা বুঝতে পারে না। দেহ ও প্রাণ আলাদা জিনিস। মানুষ ছাড়াও অন্য প্রাণীদের দেহ ও প্রাণ রয়েছে। কিন্তু, রূহ ও শয়তান কেবল মানুষের জন্যেই নিযুক্ত করা হয়েছে।